সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী বিয়ানীবাজারের কৃতি সন্তান স্থপতি শাকুর মজিদ
আগামী ২২ নভেম্বর শনিবার ৫০তম বৎসরে পা রাখবেন। শাকুর মজিদ এর ৫০তম জন্মোৎসব পালনে
বিয়ানীবাজারে সার্বজনীনভাবে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। বিকেল ২টায়
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চত্বরে শুরু হবে এ উৎসব। কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময়, আলোচনা সভা,
শাকুর মজিদের নির্মিত
চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং ‘আলোকের ঝর্ণাধারা’ নামক শাকুর মজিদের
সুবর্ণজয়ন্তি স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যার পর মঞ্চস্থ হবে
সিলেটের নৃত্যশৈলীর পরিবেশনায় শাকুর মজিদের লেখা মঞ্চনাটক ‘মহাজনের নাও’ গীতি-নাট্য এবং বাউল গানের আসর। জন্মোৎসবকে
আনন্দঘন বর্ণাঢ্যময় করে তুলতে উদযাপন কমিটি ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলাসহ সিলেটের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষকে উৎসবে
উপস্থিত হওয়ার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। বিয়ানীবাজার উপজেলা
পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান ও সাংবাদিক শরিফুল হক মনজুকে সদস্য সচিব করে “শাকুর মজিদ এর ৫০তম জন্মোৎসব উদযাপন কমিটি”
গঠন করা হয়েছে।
বিয়ানীবাজারের একৃতি সন্তান স্থপতি শাকুর মজিদ,
কবিতা, সাংবাদিকতা, স্থাপত্যকলা,
আলোকচিত্র, তথ্যচিত্র নির্মান, রেডিও-টিভি-মঞ্চের নাটক, ভ্রমন বা স্মৃতিচারণমূলক লেখা যা কিছুতেই হাত দিয়েছেন সোনা ফলিয়েছেন। শাকুর
মজিদ স্থাপত্য বিদ্যার মানুষ হলেও, নান্দনিক,
সৃষ্টিশীল বহুমুখী প্রতিভার
বদৌলতে, সৃষ্টিশীল সংস্কৃতির নানামুখী প্রতিভাধর জাতীয়
ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। আমাদের পরাম্পরার এবং পঞ্চখন্ডের মনিষার ধারায়
সাম্প্রতিক সময়ে শাকুর মজিদ একজন অনন্য উজ্জল ব্যক্তিত্ব। তাঁর জন্মদিন পালন এই
অঞ্চলের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয়। শাকুর মজিদ ১৯৬৫ সালের ২২ নভেম্বর সিলেট জেলার
বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা দোয়াখা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম আব্দুল
মজিদ এবং মার নাম ফরিদা খাতুন। তিনি ১৯৭১ সালে মাথিউরা মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়
শিক্ষা জীবন শুরু করে মাথিউরা
দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। এরপর ১৯৭৮ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৭ম শ্রেণীতে ভর্তি
হন। ওই কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগে ভর্তি হন ও স্থাপত্যে স্নাতক
ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি মাসিক অংগনার নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, ভোরের কাগজ'র বুয়েট প্রতিনিধি, লন্ডস্থ সাপ্তাহিক সুরমা'র প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সুবাদে তিনি ছিলেন 'বুয়েট সাংবাদিক সমিতি'র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাচিত সভাপতি। শান্তনু আশকার
ছদ্মনামে প্রথম একটি কবিতা লিখে তার সাহিত্যজগতে আত্মপ্রকাশঘটে। ১৯৮৫ খৃষ্টাব্দের
২০ ডিসেম্বর সিলেট বেতারে আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নাটক "যে যাহা করো রে বান্দা
আপনার লাগিয়া" ও ১৯৮৬ সালের জুন মাসে "হিসাব বুঝে পেলাম" প্রচারের
মধ্য দিয়ে নাট্যকার হিসেবে দর্শকদের মনে স্থান করে নেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের
মধ্যে রিতা ও দু:সময়ের গল্প, ক্লাশ সেভেন ১৯৭৮, ভাটির পুরুষ, লন্ডনী কন্যা, করিমুনেসা (নাটক), নাইওরী, একটি লাল শাড়ি, সাদা মাটির ঘ্রাণ (টেলিফিল্ম), চেরাগ, বৈরাতি ( নাটক), আমেরিকায় তের রাত, পৃথিবীর পথে পথে, কাছের মানুষ দূরের মানুষ, পাবলো নেরুদার দেশে, কালাপানি ও সক্রেটিসের বাড়ি, হো চি মিনের দেশে। ১৯৯০ সালে ইউনিসেফ আয়োজিত
মেয়ে শিশু বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় ও খেলাঘর আয়োজিত বাংলাদেশের শিশু বিষ্যক
আলোকচিত্র পুরুস্কার অর্জন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির আলোকচিত্র
পুরুস্কার ও নিউইয়র্কের লেন্সভিউ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির পুরুস্কার অর্জন।১৯৯২ সালে
বুয়েটে 'স্থাপত্য বিভাগ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি
নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে নাইওরী'র জন্য বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স
এসোসিয়েশনের শ্রেষ্ঠ রচয়িতার পদক লাভ, টেলিভিশন রিপোর্টার্স পদক লাভ। ২০০৪ সালে
স্ক্রিপ্ট রাইটিং-এ চেরাগ এর ট্রাব ও বিসিআর,
রিদম অন দ্যা স্টেজ এর
পুরুস্কার লাভ। ২০০৫ সালে বৈরাতি'র সিজেএফবি পদক লাভ, বাসসাস পদক লাভ। ২০০৬ সালে পৃথিবীর পথে পথে-র জন্য কলকাতার রেনেসা বাংলা পদক
লাভ করেন। ২০০২ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ চলচিত্র উৎসবে যোগদান, ২০০৬ সালে চীনের সিসিটিভির আনন্ত্রণে চীন সফর, দেশে-বিদেশে আলোকচিত্র
প্রদর্শন, নাটকের শুটিং এর জন্য পর্যটক হয়ে উঠেন। তিনি
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য,
জার্মানী, গ্রীস, স্কটল্যান্ড সহ অসংখ্য দেশ ভ্রমণ করেছেন।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন