
জনপ্রিয়
ডেস্ক: নারীদের
রাজনীতির বাইরে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার
কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। তাই জাতীয় নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব আরো
বাড়িয়ে দেশের বৃহত্তম এ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন পরিচালনাকারী
সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি। গত ১৪
অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ‘ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব
সাউথ এশিয়া (ফেমবোসা)’ আয়োজিত এক সভায় তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। সভার
কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ,
ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান,
শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও আফগানিস্তানের নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলো
নিয়ে ফেমবাসো প্রতিষ্ঠিত।
‘স্ট্যাডি অব ডিটারমাইন্টস অব ওমেন ভোটারস চয়েজ
অ্যান্ড ফেসিলেটিং ওমেন পার্টিসিপিইশন ইন ইলেকটেড অফিসেস’ বিষয়ে
বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা তৈরির লক্ষ্যে স্ট্রেংথেনিং ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ’
(এসইএমবি) প্রকল্পের অধীনে কমিশন এ সভার আয়োজন করে। সভায় সিইসি বলেন, ‘যে
দেশের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগ নারী। এখানে বিশাল এ জনগোষ্ঠীকে বাইরে রেখে দেশের উন্নয়ন
সম্ভব নয়। আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা বেশ অগ্রগামী। তাই নারীদের যোগ্য
রাজনীতিবিদ হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি
বলেন, ‘বিগত দুদশকে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার ওপর বিশেষ
ব্যবস্থা নেয়ার ফলে বর্তমানে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি
এবং টারশিয়ারি লেভেল ও শিক্ষাঙ্গণে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি
পেয়েছে।’সিইসি আরো বলেন, ‘নারীরা
নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারলে রাজনীতিবিদরা তাদের জন্য রাজনীতিতে ন্যায্য
স্থান ছেড়ে দিতে আগ্রহ দেখাবে।’
সভায় ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন
পাবলিক পরীক্ষায় পাশের ক্ষেত্রে মেয়েদের সাফল্য অনেক বেশি, তাছাড়া
চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা বেশ অগ্রগামী।’ পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব
সুরাইয়া বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার ওপর পরিসংখ্যান বিভাগ জরিপ
ও গবেষণা করেছে। বিভিন্ন নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য কী করণীয়,
তা গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করা যেতে পারে।’ এছাড়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও রাজনীতিতে অধিক মাত্রায়
সম্পৃক্ত করতে হলে নারীদের প্রতিবন্ধকতাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে বলেও তিনি মনে
করেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব
তারিক-উল-ইসলাম জানান, নির্বাচনে প্রার্থীর জামানতের পরিমাণ বেশি হওয়ায়
নারীদের অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নারীদের ক্ষমতায়নে উন্নত দেশ যে ব্যবস্থা
গ্রহণ করেছিল তা পর্যালোচনা করা দরকার। নির্বাচনে
নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে এক কমিশনার বাংলামেইলকে বলেন, ‘নির্বাচনে
নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার ব্যাপারে ইসি সব সময় আন্তরিক। সব নির্বাচনে যাতে
নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়, সে লক্ষ্যেই এ গবেষণা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে
বলে জেনেছি। উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে
নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাবে।’এ দিকে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন,
‘ইসি নির্বাচনে নারী অংশগ্রহণে আন্তরিক হলেও তৃতীয় উপজেলা নির্বাচনে
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সেসময় প্রায় দেড় হাজার নারী
নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হন। কিন্তু চতুর্থ উপজেলা শেষ হওয়ার পাঁচমাস অতিবাহিত হলেও
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন করতে পারেনি ইসি।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন