
জনপ্রিয় ডেস্ক.একাত্তরে
মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার কমান্ডার এবং আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন
আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারক হোসেন মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি
এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। অপেক্ষমাণ
রাখার দীর্ঘ পাঁচ মাস পর আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। এটি একাত্তরে
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা ১৩তম মামলার রায়। গত ২ জুন মোবারকের মামলার
যুক্তিতর্ক শেষে রায় অপেক্ষমাণ রাখা হয়। মোবারকের বিরুদ্ধে আনা ৫টি অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর
অভিযোগে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার টানামান্দাইল ও জাঙ্গাইল গ্রামে ৩৩
জনকে হত্যা) তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।এছাড়া ৩ নম্বর অভিযোগে (ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সদর থানার ছাতিয়ানা গ্রামের আবদুল খালেককে অপহরণ করে হত্যা) তাকে যাবজ্জীবন
কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপর তিনটি অভিযোগ থেকে তা অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। মুক্তিযোদ্ধা
শহীদ আবদুল খালেকের মেয়ে খোদেজা বেগম ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোবারকের বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে
মামলা করেন। এই মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর বিচারিক
আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০১২ সালের ১৬ জুলাই থেকে
২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামল চৌধুরী মোবারকের বিরুদ্ধে
তদন্ত শেষে প্রসিকিউশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর মোবারকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক
অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২০১৩ সালের ১২ মার্চ মোবারকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক
অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই জামিনে থাকা মোবারকের জামিন বাতিল করে
জেলহাজতে পাঠানো হয়। এরপর ২০ মে থেকে উভয়পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের পর যুক্তিতর্ক শেষ
হয়। মোবারক
হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানার নয়াদিল গ্রামের সাদত আলীর ছেলে। স্বাধীনতার পর
তিনি জামায়াতের ইউনিয়নের রুকন ছিলেন। পরে তিনি ১৬ বছর মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের
সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০১১ সালে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এলাকায় তিনি 'দুম্বা হাজি' নামে
পরিচিত।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন