দুলাল হোসেন মৃধা : দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ মোট ৬৮টি কারাগারে বন্দির সংখ্যা প্রতিনিয়ত
বেড়ে চলছে। বর্তমানে কারাগারে প্রায় ৮০ হাজার বন্দি রয়েছেন। যার মধ্যে প্রায় ২৫
থেকে ৩০ শতাংশই মাদক মামলার আসামি। মাদক মামলার আসামিরা কারাগারে মাদকদ্রব্য
আনা-নেওয়ার পাশাপাশি নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত। কারা অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্যসহ
অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও গাজীপুর জেলার
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি প্রিজন্সে অ্যামেরিকান প্রযুক্তির দুইটি মানবদেহ (বডি)
স্ক্যানার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ
কারাগারগুলোতে লাগেজ স্ক্যানার বসানোসহ কোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি
বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারা সূত্র জানায়, দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয়
কারাগারসহ মোট ৬৮টি কারাগারে ৩২ হাজার ৩৬৬ জন পুরুষ এবং এক হাজার ৮০১ জন নারীসহ
মোট বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৪ হাজার ১৬৭ জন। ডিসেম্বর পর্যন্ত কারাবন্দির সংখ্যা ছিল
প্রায় ৬৮ হাজার। বর্তমানে বন্দি আছেন প্রায় ৮০ হাজার। এসব বন্দিদের একটি
উল্লেখযোগ্য অংশ মাদক মামলার আসামি। মাদক মামলার আসামিরা এক শ্রেণির অসাধু কারা
কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের সহায়তায় দেশের সবক’টি কারাগারে মাদক আনা-নেওয়া করছে।
কেউ-কেউ শরীরের গোপন অঙ্গে নিষিদ্ধ পণ্য রেখে কারাগারে নিয়মিত প্রবেশ করছে। এ
কারণে কারাগারগুলোতে হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবার ব্যবসা চলছে ব্যাপক হারে। কারা
কর্তৃপক্ষ কারা অভ্যন্তরে মাদক বেচাকেনা সম্পর্কে অবহিত হলেও বেশির ভাগ অপরাধী
থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কারা কর্তৃপ নানা পদপে নিয়েও মাদকদ্রব্যসহ নিষিদ্ধ
পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে পারছে না। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন
সময়ে কারা কর্মকর্তা, কারারক্ষী ও কারাবন্দিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু
তারপরও কারা অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য প্রবেশ করছে। এ অবস্থায়
কারাগারে অবৈধ পণ্যের প্রবেশ ঠেকাতে কারাগারে আমেরিকান প্রযুক্তিতে তৈরি হিউম্যান
বডি স্ক্যানার ও লাগেজ স্ক্যানার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কারাগারগুলোতে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়িয়ে মনিটরিং জোরদার
করারও পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে কারা
মহাপরিদর্শক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, কারাগারের নিরাপত্তা
জোরদারে মানবদেহ ও লাগেজ স্ক্যানার বসানো হচ্ছে। আমরা সাতটি বডি স্ক্যানার
চেয়েছিলাম। একেকটি বডি স্ক্যানারের দাম এক কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এ কারণে আপাতত দুটি
বডি স্ক্যানার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা প্রাথমিকভাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার
ও কাশিমপুর কারাগারের হাইসিকিউরিটির জন্য ব্যবহার করা হবে। এসব বডি স্ক্যানার
পৃথিবীর উন্নত দেশের কারগারগুলোয় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বডি স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে
যিনি যাবেন, তার পেটের ভেতরে কিছু নিয়ে গেলেও সেটা ধরা পড়বে। বডি স্ক্যানারের তুলনায় লাগেজ
স্ক্যানারের দাম কম হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কারাগারে লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন
করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, কারাবন্দীদের সঙ্গে কারারীদের যোগসাজশ
নেই, তা বলব না। তবে যে কারারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যবহারে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দু’জন কারা কর্মকর্তাসহ ৫
জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারাবন্দীরা যেন কোনোভাবেই মাদক ও
মোবাইলসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জিনিসপত্র কারাভ্যন্তরে নিয়ে আসতে না পারে সেজন্য এই
ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
Post Top Ad
Responsive Ads Here
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৫
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর হাইসিকিউরিটিতে বসানো হচ্ছে বডি স্ক্যানার
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Post Top Ad
Responsive Ads Here
Author Details
জনপ্রিয়২৪ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বিশ্বজুড়ে রেমিডেন্স যোদ্ধাদের প্রবাস জীবন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে। স্পেনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন