জনপ্রিয় ডেস্ক : বাংলাদেশে
চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত পিয়েরো
মায়াদু বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য
সাক্ষাত করেন। এসময় ইইউ রাষ্ট্রদূত বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে
প্রধানমন্ত্রীকে অনতিবিলম্বে সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ইইউ
ঢাকাস্থ কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জনানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত পিয়েরো মায়াদু বলেছেন,‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে কোনো ধরনের সহিংসতার বিপক্ষে’। পিয়েরো মায়াদু আরো জানিয়েছেন, বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। চলমান সহিংসতা বাংলাদেশের
সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে প্রভাব ফেলছে। এ প্রেক্ষিতে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনতিবিলম্বে সংলাপের আহ্বান জানানোর অনুরোধ করেন ইইউ
রাষ্ট্রদূত পিয়েরো মায়াদু। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে
প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া সংলাপের পরামর্শ প্রসঙ্গে সুজন সম্পাদক
বদিউল আলম মজুমদার রেডিও তেহরানকে বলেন, বিদেশিরা কী
বলেছে তা গুরুত্বপূর্ণ তবে তার চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দেশের আপামর জনগণ এ
অচলাবস্থার অবসান চায়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধান
করতে হবে। এদিকে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট
সমাধান, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতিসংঘ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বুধবার জাতিসংঘ সদর
দফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন
ডুজাররিক। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র আরো জানান, বাংলাদেশের
স্থিতি ও গণতন্ত্র রক্ষায় জাতিসংঘ মহাসচিব ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সমস্যা
সমাধানে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশের চলমান
রাজনৈতিক সংকট সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের
উত্তরে তিনি বলেন,
বাংলাদেশের গত ১ মাসের পরিস্থিতি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
এই পরিস্থিতিতে জীবন হানির ঘটনায় জাতিসংঘ তার উদ্বেগের কথা অব্যাহতভাবে জানিয়ে
আসছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ ও
সমস্যা সমাধানে তার ভূমিকা প্রসঙ্গে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্যকার জনাব সাদেক খান
বলেন, জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে ফার্নান্দেজ তারানকোকে আবার পাঠানো হতে
পারে। তাছাড়া তারা এর আগেও যেমনটি
ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীবাহিনীতে নেবার ক্ষেত্রে মানবাধিকারের
মানদণ্ড শক্তভাবে প্রয়োগ করা হতে পারে। জাতিসংঘ মহাসচিবের
মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন,
বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ
অংশীদার। সংস্থাটির অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের
ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগ সহসাই পরিলক্ষিত হবে।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন