বাহার উদ্দিন বকুল,জেদ্দা : প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য উপদেষ্টা সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরির সঙ্গে ইফতার ও মত বিনিয়ম সভা করেছেন রিপোর্টাস
এসোসিয়েশন অব ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল কমিটির নেতৃবৃন্দ। গত ৫ জুলাই সন্ধ্যায় পবিত্র মক্কা নগরীর বুর্জ সুলতান হোটেল
এই ইফতার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রিপোর্টাস এসোসিয়েশন অব ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সৌদি আরব পশ্চিমাঞ্চল
কমিটির সভাপতি এম,ওয়াই আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের সাধারন সম্পাদক সোহেল রানা
সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল এ,কে,এম শহীদুল করিম।
সৌদি আরব প্রবাসীদের নিয়ে নেতিবাচক
সংবাদ/প্রচারণার বিষয়ে যাচাই-বাঁচাই তথা বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা;মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর
সংবাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করাসহ সৌদি মিডিয়ার সাথে বাংলাদেশ মিডিয়ার একটি সুসম্পর্ক সেতুবন্ধন
রচনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস কনস্যুলেটে মিডিয়া উইং প্রতিষ্ঠা
এবং অভিজ্ঞ প্রেস এন্ড মিডিয়া এ্যাটাচি নিয়োগের ব্যাপারে সৌদি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের
দাবী খুবই যুক্তিসংগত এ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সাংবাদিক জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মহলে কথা বলবেন বলেও তিনি আস্বস্থ করেন।
৫ জুলাই, শনিবার মক্কায় বুরুজ সুলতান হোটেলে স্থানীয়
রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। উল্লেখ্য, উমরাহ উপলক্ষ্যে তিনি এখন মক্কায় অবস্থান করছেন।
রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব ইলেক্ট্রনিকস
মিডিয়া কর্তৃক আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরী
বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে যারা স্বেচ্ছাশ্রমে সৌখিন রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, প্রবাসের সাথে দেশের সেতুবন্ধন রচনায় ভূমিকা রাখছেন, তাদের প্রশিক্ষণে সহায়তারও আশ্বাস দেন। সৌদি প্রবাসীদের বিপুল রেমিটেন্সের
কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, সৌদি আরবের উন্নতি-অগ্রগতিতে বাংলাদেশী শ্রমশক্তি ভূমিকা রেখে চলেছে। এসোসিয়েশনের
সভাপতি এম.ওয়াই.আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়
কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম ইলেক্ট্রনিকস মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়া কর্মীগণকে
ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সৌদি প্রবাসীদের অনুষ্ঠানাদির খবরসহ তাদের সমস্যা-সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরছে
মিডিয়া, যা সকলের জন্যে মঙ্গলজনক। ডিজিটাল পাসপোর্ট প্রদানের
অগ্রগতি কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত ২৪ নভেম্বর, ২০১৫ইং এর মধ্যে সৌদি প্রবাসীদের হাতে ডিজিটাল পাসপোর্ট পৌঁছে দিতে দূতাবাস
এবং কনস্যুলেট তৎপর রয়েছে। প্রচারণার ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় হওয়ার কথা জানিয়ে, রিপোর্টারসগণ সহ প্রবাস সমাজের সহায়তাও চান তিনি। সংগঠনের
সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার সঞ্চালনায়, সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি
রক্ষা ও বিনির্মাণে মিডিয়ার ভূমিকা বিষয়ক সুপারিশমালা তুলে ধরেন আবুল বাশার বুলবুল।
উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, এখানকার প্রচার মাধ্যমে
বাংলাদেশ এবং প্রবাসীদের নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচারণার বিষয়ে যাচাই-বাঁচাই
তথা বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ
করা এবং এর উৎস সন্ধানসহ প্রতিকার দাবী।
µ বাংলাদেশ
দূতাবাস/কনস্যুলেটে মিডিয়া উইং প্রতিষ্ঠা করা এবং অভিজ্ঞ প্রেস এন্ড মিডিয়া এ্যাটাচি
নিয়োগের ব্যবস্থা করা।
µ সৌদি
মিডিয়ার সাথে বাংলাদেশ মিডিয়ার একটি সুসম্পর্ক/সেতুবন্ধন রচনা। এখানকার নামি-দামি সাংবাদিকগণকে
বাংলাদেশ ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানানো। দূতাবাস/কনস্যুলেটে জাতীয় অনুষ্ঠান-আয়োজনে তাঁদেরকে
দাওয়াত দেয়া।
µ ড. তারিক
এ. মাইনা (সৌদি গ্যাজেট) বাংলাদেশের দুঃসময়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসম্পাদকীয় লিখে, এদেশের উন্নতি-অগ্রগতিতে বাংলাদেশী শ্রমশক্তির অবদান তুলে ধরেন। তাঁকে সম্মানিত
করা এবং তাঁকে কেন্দ্র করে একটি প্লাটফরম- ‘সৌদি আরব-বাংলাদেশ ফ্রে-শীপ
প্রেস এ্যাসোসিয়েশন’ জাতীয় সংগঠন তৈরি করা।
µ এখানে বিভিন্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশী অধ্যাপকগণ এবং অধ্যয়নরত ছাত্রদেরকে আরবি/ইংরেজি পত্রিকায়
লিখতে উৎসাহিত করা, যা দেশের ভাবমূর্তি গঠনে ভূমিকা রাখবে।
µ দেশের স্বনামধন্য
সাংবাদিক/কলামিষ্টগণকে এখানকার ইংরেজি দৈনিক পত্রিকায় লিখতে উৎসাহিত করা। এখানকার ইংরেজি
দৈনিক পত্রিকার জন্যে ঢাকায় প্রতিনিধি নিয়োগের ব্যবস্থা করা।
µ বাংলাদেশের
প্রচার মাধ্যমে, টক-শোতে/ নাটকে সৌদি আরবকে নেতিবাচকভাবে
উপস্থাপন না করা।
µ বাংলাদেশ কম্যুনিটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-আয়োজন, বাংলাদেশের চ্যানেলে প্রচারের ক্ষেত্রে এখানকার অনুমতি আদায়। মূলতঃ এই রিপোর্টিং
কোন পেশা বা আর্থিক সুবিধা ছাড়া, সৌখিন স্বেচ্ছাশ্রমে
হচ্ছে।
আলোচানায় অংশগ্রহণকারীগণের মধ্যে
ছিলেন বাহার উদ্দিন বকুল,মাসুদ সেলিম, হানিস সরকার, সাজেদুল ইসলাম, নাসির চৌধুরী, কামাল অভি, মোবারক হোসেন,আমান উল্লাহ,এনায়েত
হসেন,সেলিম আহ্মেদ,এমদাদুল হক,সহ আরও অনেকে।
সভাপতির সমাপনী বক্তৃতায় এম.ওয়াই
আলাউদ্দিন প্রধান অতিথি ইকবার সোবহান চৌধুরীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এক বছর
আগে তাঁর উপস্থিতিতে রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন গঠিত হয়েছিল এবং তরুণ রিপোর্টরগণ বেশ সুনামের
সাথে প্রবাস সমাজকে তুলে ধরার প্রায়াস পাচ্ছেন। বিশেষ অতিথি কনসাল জেনারেলসহ এসোসিয়েশনের
সকল সদস্যকে অনুষ্ঠান সফতার জন্যে আন্তরিক ধন্যবাদ জনান তিনি।
ইফতার গ্রহণ এবং সান্ধ্যভোজে আপ্যায়নের
মাধ্যমে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘটে।






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন