বাহার উদ্দিন বকুল, জেদ্দা
,সৌদি আরব
: বহু প্রতীক্ষার
পর সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ইংলিশ মিডিয়াম)-এর
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মাননীয় শিল্পমন্ত্রী
জনাব আমির হোসেন আমু (এমপি) এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব
গোলাম মসিহ, কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটি চলছিল একটি ভাড়া বাড়িতে। সৌদি সরকারের নতুন বিধি
অনুযায়ী, স্কুল-কোড অনুযায়ী নির্মিত ভবনে চালাতে হবে
স্কুল। জেদ্দা মহানগরীর মদিনা রোড সংলগ্ন মসজিদ সৌদ এর সন্নিকটে একটি জমি লিজ নিয়ে
স্থাপিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ইংলিশ মিডয়াম)-এর স্থায়ী ভবন। ভিত্তিপ্রস্তর
স্থাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, স্কুল গভর্নিং
বোর্ড চেয়ারম্যান কাজী নেয়ামুল বশির। প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন মাননীয়
শিল্পমন্ত্রী জনাব আমির হোসেন আমু (এমপি)। বিশেষ
অতিথিগনের মধ্যে ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জনাব গোলাম মসিহ, কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ
মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম এর সঞ্চালনায় মাননীয় শিল্পমন্ত্রীর সম্মানে মানপত্র পাঠ
করেন স্কুলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ। স্কুলের পক্ষ থেকে প্রধান
অতিথি এবং বিশেষ অতিথিগণকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন স্কুলের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানসহ সদস্যগণ। অভিভাবকগণের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন এ.কে
আজাদ চয়ন, ইউসুফ মাহমুদ ফরাজী, আতিকুল ইসলাম আলভী। তারা প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার বাহন
এই স্কুলটি নির্মানে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তার জোর দাবী জানান। ব্রিটিশ
কারিক্যুলামে পরিচালিত স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মেধার স্বাক্ষর রাখছে উল্লেখ করে
তারা বলেন, এই প্রজন্মের মধ্য থেকেই জন্ম নেবে আগামী
দিনের মেধাবী নেতৃত্ব। কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম স্কুলের সাথে
সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়ে বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা
ডিঙিয়ে স্কুল নির্মানের অনুমতি পাওয়া গেছে সৌদি মন্ত্রণালয় থেকে। অভিভাবক, সামাজিক-ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্কুল
ভবন নির্মানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। মাননীয় রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ
শিক্ষার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরের কথা উল্লেখ করে জানান, জেদ্দায় ২টি, রিয়াদে ২টি,দাম্মাম, মক্কা ও মদিনায় ১টি করে মোট ৭টি
স্কুলের নিজস্ব ভবন নির্মানের লক্ষ্যে দূতাবাস কাজ করছেন এবং প্রজেক্ট তৈরি করছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অর্থায়নে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মাননীয়
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু প্রবাসে বাংলাদেশের পতাকা উড়ে এবং জাতীয় সংগীত গাওয়া
হয় এমন একটি প্রতিষ্টান, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (ইংলিশ মিডিয়াম)-এর ভিত্তিপ্রস্তর
স্থাপনের সুযোগ দেয়ার জন্যে স্কুল কমিটিসহ অভিভাবকগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সদস্য স্বাধীন বাংলাদেশে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জন্য শূন্য,তখন ৫২ হাজার
প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করণ করেন। সেই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্য শেখ হাসিনা
শিক্ষার প্রতি অত্যন্ত সচেতন এবং উদার। বিনামূল্যে বই বিতরণ সহ ছাত্রছাত্রীদের
বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জেদ্দায় এই স্কুল নির্মানে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা অবশ্যই আসবে।
নির্মানের পর স্কুল উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং আসবেন বলে তিনি আশাবাদ
জানান। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে
প্রবাসীদের রেমিটেন্স বড় ভূমিকা রাখছে। সৌদি প্রবাসীদের রেমিটেন্সের জন্যে সাধুবাদ
জানান তিনি।
সভাপতির সমাপনী বক্তৃতায় কাজী
নেয়ামুল বশির বলেন, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অভিভাবকগণের ঘামেভেজা অর্থে পরিচালিত হয়ে
আসছে স্কুল। তবে প্রায় ২৫ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয়ে স্কুল নির্মান প্রজেক্ট, বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সরকারী সহায়তার
দাবী জানান। তিনি বলেন, আজ মাননীয় শিল্পমন্ত্রী জনাব
আমির হোসেন আমু (এম পি)-এর হাত ধরে স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে, যা সৌদি প্রবাসীদের জন্যে এক ইতিহাস। আমরা বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল
স্কুল (ইংলিশ সেকশন)-এর ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকসহ জেদ্দা-মক্কা-মদিনার প্রবাসীরা
আশায় বুক বেঁধে আছি, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন
প্রজন্মের শিক্ষার বাহন এই স্কুলটি নির্মানে, বাংলাদেশ
সরকারের সহায়তা থেকে আমরা বঞ্চিত হবো না। আর এ সহায়তা যতো শীঘ্র আসবে ততোই মঙ্গল।
মাননীয় শিল্পমন্ত্রী মহোদয়ের মাধ্যমে আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী,শিক্ষামন্ত্রী এবং মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর অনুগ্রহ ও অনুদানের অপেক্ষায়
প্রহর গুনছি।
সন্ধ্যায় দোয়া ও ইফতারগ্রহণের
পর সভা শুরু হয়। সভা শেষে সবাইকে সান্ধ্যভোজে আপ্যায়িত করা হয়।






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন