বাহার উদ্দিন বকুল,জেদ্দা, সৌদি আরব : কেবল সরকারের
পক্ষে সকল প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, যদি
না প্রবাসীরা নিজেরা সচেতন হয় এবং পরস্পরের পাশে দাঁড়ায়। সংগঠন প্রিয় বাংলাদেশীরা পৃথিবীর
যেখানেই বসবাস করুক, নিজেদেরকে সংগঠিত করে, নিজেদের সুখদুঃখ সম্মিলিতভাবে বহন করে। জেদ্দায়
এক গোলটেবিল আলোচনায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের
মাননীয় উপ-সচিব জনাব খলিল আহমেদ। মূলতঃ উমরাহ উপলক্ষ্যে তাঁর সৌদি আরব আগমন। মাহে রমজান
মুসলিম উম্মাহর জন্যে পরম এক নিয়ামত। ইসলামের প্রাণকেন্দ্র পবিত্র ক্বাবায় উমরাহ উপলক্ষ্যে
লাখো মুসলামান ছুটে আসেন রমজান মাসে। আল্লাহর অতিথিদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে মক্কা-মদিনা।
এমনি উমরাহ পালনে পবিত্র মক্কায় আসেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের
মাননীয় উপ-সচিব খলিল আহমেদ এবং উক্ত মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও গণসংযোগ কর্মকর্তা শহিদুল
আলম মজুমদার।
সৌদি আরব তথা জেদ্দা প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার খোঁজ খবরসহ প্রবাসে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের
খবরাদি নিতে গিয়েই উপ-সচিব মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ ঘটে বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি,জেদ্দা-র। তাঁর
একান্ত আগ্রহে সমিতির কর্মকর্তা এবং জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট কর্মকর্তাবৃন্দের
সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে একটি গোলটেবিল বৈঠক তথা মতবিনিময়ের ব্যবস্থা হয়, ২৮ জুন, রবিবার সন্ধ্যায়। বৃহত্তর কুমিল্লা
সমিতি, জেদ্দা-র সম্মানিত উপদেষ্টা প্রকৌশলী মোহাম্মদ
আশরাফ উদ্দিন-এর অফিসের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি
প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহিন সিরাজ। বাংলাদেশ থেকে আগত উল্লেখিত অতিথিগণসহ সম্মানিত অতিথিগণের
মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, জেদ্দা-র মাননীয়
কাউন্সিলর (শ্রম), মোঃ মোকাম্মেল হোসেন; মাননীয় কনসাল (শ্রম ও শিক্ষা) রেজা-ই-রাব্বি; প্রথম সচিব মোঃ আলতাফ হোসেন; বায়রা লাইফ ইনস্যুরেন্সের
ডাইরেক্টর মোঃ ফরিদ আহমেদ। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বুলবুল এর সঞ্চালনায় মতবিনিময়
সভায় সমিতির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা সাদেক আহমেদ, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তাজুল ইসলাম মজুমদার, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন, নাসির উদ্দিন
সরকার, কাজী আমিন আহমেদ, মীর কাশেম মজুমদার। সহসভাপতিগণের মধ্যে ছিলেন, কাজী নেয়ামুল বশির, মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির
ও দেলোয়ার হোসেন সরকার। এছাড়া সম্পাদক ম-লীর মধ্যে ছিলেন সৈয়দ আবদুজ জাহের জালাল, মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ফরিদ উদ্দিন মজুমদার, এম.ওয়াই আলাউদ্দিন, কাজী শাফায়েত হোসেন প্রমূখ।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে মাননীয় কাউন্সিলর মোঃ মোকাম্মেল হোসেন, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি, জেদ্দা-র সমাজকল্যাণমূলক
কর্মকান্ডের প্রশংসা করে বলেন, সমস্যা কবলিত প্রবাসীদের
পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি কনস্যুলেটর পাশে দাড়িয়ে সাধারণ ক্ষমার সময় অসাধারণ সেবা দিয়েছে
বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি, জেদ্দা-র সদস্যবৃন্দ। সমিতির
স্বচ্ছতারও প্রশংসা করেন তিনি। বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি, জেদ্দা-র সমাজকল্যাণমূলক কর্মকা- তুলে ধরতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক সমিতির
বিগত দিনের তিনখানা স্মরণিকা অতিথিগণের হাতে তুলে দিয়ে জানান, প্রতি দুই বছর অন্তর নবগঠিত কমিটির অভিষেক-এর সময় সমিতির স্মরণিকা প্রকাশ
করা হয় এবং এতে বিগত সময়ের সমাজকল্যাণমূলক কর্মকা-ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। সমিতির
সদস্যগণসহ প্রবাস সমাজের বিপদগ্রস্থ, রোগগ্রস্থ, দুর্ঘটনায় কবলিতদের আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান করা সমিতির প্রধান কাজ
বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রবাসীদের চিকিৎসা সহায়তা, মৃত
ব্যক্তির হাসপাতালের দেনা পরিশোষসহ লাশ দাফন অথবা দেশে প্রেরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখে
সমিতি। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বদেশে আর্থিক সহায়তা প্রেরণ করে সমিতি। বিভিন্ন
জাতীয় দিবস সমূহ উদযাপনসহ বর্ষবরণ, ইফতার মাহফিল, ঈদ-পূনর্মিলনী প্রভৃতির মাধ্যমে সমাজে সম্প্রীত সৃষ্টিসহ প্রবাসে বেড়ে ওঠা
নতুন প্রজন্মকে স্বদেশ-সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে তৎপর থাকে সমিতি।আলোচকগণ সৌদি
আরবে প্রায় বিশ লক্ষাধিক বাংলাদেশী কর্মরত আছেন উল্লেখ করে বলেন, এখানে সাধারণ শ্রমিক ছাড়াও ডাক্তার, প্রকৌশলী, অধ্যাপক সহ পেশাজীবিগণ আছেন। তবে পার্শবর্তী দেশসমূহের তুলনায় অনেক কম।
এদেশে দক্ষ শ্রমিক, নার্স,ডাক্তার, শিক্ষক আরো বেশি করে প্রেরণের উদ্যোগ নেয়ার প্রতি জোর দেন। এখানকার সংবাদ
মাধ্যম সমূহে বাংলাদেশের নেতিবাচক সংবাদ প্রচারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে, দূতাবাস ও কনস্যুলেটে প্রেস-সচিব নিয়োগের দাবী জানানো হয়। সৌদি আরবের সাথে
সখ্যতা বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ে একটি শক্তিশালী ‘সৌদি-আরব ডেস্ক’ প্রতিষ্ঠার
প্রতিও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। মাননীয়
উপসচিব খলিল আহমেদ, তাঁর বক্তৃতায় সংক্ষিপ্ত সময়ে এমন একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করায় কনস্যুলেট
কর্মকর্তাগণসহ বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
খোলামেলা
মতবিবিময়ে ওঠে আসা বিষয় সমূহ তিনি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন আকারে পেশ করার আশ্বাস
দিয়ে বলেন, কেবল সরকার সকল প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে না, যদি না
প্রবাসীরা নিজেরা সচেতন হয় এবং পরস্পরের পাশে দাঁড়ায়। দেশের জন্যে বৈদেশিক মূদ্রার
যোগান দিয়ে প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্মানজনক বিশাল অবদান রাখছে উল্লেখ
করে তিনি বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার সর্বদা সচেষ্ট। বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি, জেদ্দার
সমাজকল্যাণমূলক কার্যকলাপের প্রশংসা করে তিনি এই সমিতির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা
করেন। সভাপতির সমাপনি বক্তৃতায় প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহিন সিরাজ বাংলাদেশ থেকে আগত
অতিথিগণকে এবং কনস্যুলেট কর্মকর্তাগণকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং একটি গঠনমূলক
সফল আয়োজনের জন্যে সমিতির নেতৃবৃন্দকে সাধুবাদ দেন।
ইফতার
গ্রহণ এবং সান্ধ্যভোজের মাধ্যমে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘটে।





কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন