মোঃ আব্দুল করিম,পারিস : বাংলাদেশের
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ফ্রান্স সফরের প্রতিবাদে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে
ফ্রান্স বিএনপির একটি অংশ। তারা আলোচনা সভা করে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই বৈঠকে ফ্রান্স
বিএনপির সভাপতি সাইফুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক আবু তাহেরের
প্রতি অনাস্থা জানানো হয়।
রোববার বিকেলে প্যারিসের সেইন্ট মুরস্থ ওয়েব সুশিতে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রান্স
বিএনপির সিনিয়র সভাপতি হাজী হাবিবের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সম্পাদক কবির পাটোয়ারী, গোলাম
আবেদিন কাওসার ও মোহাম্মদ রেজাউল করিমের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, ফ্রান্স বিএনপির
সহ সভাপতি এম এ রহিম, রুহুল আমিন আব্দুল্লাহ, মাহবুবুর রহমান রাঙ্গা, হেনু মিয়া, রশিদ
পাটোয়ারী। ফ্রান্স বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সহসম্পাদক শেখ রুহেলের পবিত্র কোরান
তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় আলোচনা সভা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ফ্রান্স যুবদলের
সভাপতি আহমেদ মালেক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান, মারুফ হোসেন মুন্না, আন্তর্জাতিক
বিষয়ক সম্পাদক দিব্য রায়, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মির্জা আবদুল হান্নান এপোলো,
যুব বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আফজল, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, ফ্রান্স যুবদলের
যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শিপার, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক ইলিয়াস কাজল, ফ্রান্স যুবদলের
সহ সভাপতি সালাহ উদ্দিন আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা হাসান আহমদ। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন,
সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক জগলুল হোসেন রিমন,
সহ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদ চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহবুবুর রহমান
পাটোয়ারী, মাজহারুল ইসলাম মাজহার, শায়েক খান, কমল খান, চঞ্চল মিয়া, খালেদ হাসান শামিম,
ফয়সল মোহাম্মেদ নাসির, জামাল আহমদ ও ফজলু মিয়া প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন,শেখ হাসিনার
বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে বহির্বিশ্বের বিএনপি যখন গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করছে, সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অরাজনৈতিক ও অদূরদর্শীতার কারনে
ফ্রান্সে তা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কাজেই বর্তমান সভাপতি-সেক্রেটারীকে অভিলম্বে
ফ্রান্স বিএনপির নেতৃত্ব থেকে চলে যেতে হবে। পরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হুসেন পাটোয়ারী
সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের গঠনতন্ত্র বিরুধী নানা কার্যকলাপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কমিটি ঘোষণার পর এক দিনের জন্যও তারা কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে
মিলিত হতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমনকি দীর্ঘ দিন ধরে দলের এই দুই শীর্ষ নেতার মুখ দেখা দেখি
বন্ধ ছিল। এমন পরিস্তিতে তারা আর এ নেতৃত্বের প্রতি আস্তা রাখতে পারছেন না। তিনি দাবী
করেন ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট বর্তমান কমিটির প্রায় শ খানিক সদস্য লিখিত ভাবে বর্তমান সভাপতি
ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনাস্তা প্রকাশ করছেন। এসময় তিনি অনাস্তা প্রস্তাব সংবলিত
এ রকম একটি লিস্ট সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন । বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী
হওয়ায় দেশের ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশে এ মুহুর্তে যে কোনো জনমত জরিপ হলে দেখা যাবে বাংলাদেশের
৮০ পার্সেন্ট জনগণ বিএনপিকে সমর্থন করে। এ জন্য তিনি সব সময় আতংকে থাকেন। আর সে আতংক
হলো বেগম জিয়ার পরিবার আতংক। সে আতংক হলো বাংলাদেশের কোটি জনতার আতংক। বক্তারা বলেন,
এত নির্যাতন এত অত্যাচারে জর্জরিত আজকের বিএনপির নেতা কর্মীরা। বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের
বিরদ্ধে একের পর এক মিথ্যাচার, মিথ্যা মামলা, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা,
বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অত্যাচার, মিথ্যা মামলা থাকার পরও বিএনপির
পক্ষে ৮০পার্সেন্ট মানুষের সমর্থন রয়েছে। কারণ একটাই শহীদ জিয়া যে দলের জন্ম দিয়েছেন
সেই দল জনগনের কল্যানের দল। উন্নয়নের দল। বিএনপি আছে বিএনপি থাকবে। কোনো ষড়যন্ত্র এ
দল কিংবা দলের নেতা কর্মীদের শেষ করে দিতে পারবেনা। সেই সাথে নভেম্ভরের ১৬ তারিখ এবং
ডিসেম্ভরে আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে শেখ হাসিনার ফ্রান্স সফর প্রতিহত করার জন্য শেখ হাসিনা
প্রতিরোধ কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও তারেক রহমান,
আরাফাত রহমান ও দলের নেতা কর্মী ও দেশের জন্য মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন
ফ্রান্স বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি হাজী হাবিব।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন