শিপার আহমেদ,বিয়ানীবাজার: নির্মাণ প্রতিষ্টান আর ঠিকাদারদের
ব্যাপক অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজের কারণে সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ার আগেই পুরনো চেহারায়
ফিরে যাচ্ছে বিয়ানীবাজারের প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ সড়কগুলো। গত কয়েক মাসে উন্নয়নের এমন
বেহাল দশায় সরকারের প্রায় ২ কোটি টাকার বেশী গচ্ছা গেছে। এতে সরকারের যেমন ভাবমূর্তি
ক্ষুন্ন হয়েছে তেমনি সাধারণ মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে। আর উন্নয়ন কাজ নিয়ে এমন লুটপাটের
কারনে নির্মান প্রতিষ্টান আর ঠিকাদারদের দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। গত কয়েক মাসে উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় সিলেট-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম
আঞ্চলিক মহাসড়ক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র আওতায় পৌরশহরের কসবা ত্রিমুখি
বাজার রাস্তা, বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর রাস্তা, বিয়ানীবাজার-মুরাদগঞ্জ রাস্তা, শ্রীধরা
বাজার থেকে প্রাইমারী স্কুল পর্যন্ত রাস্তা মিলিয়ে মোট ১০টি রাস্তার সংস্কার কাজ সম্পন্ন
হয়। ভূক্তভোগী জনতার অনেক আবেদন-নিবেদনের পর বেহাল এসব রাস্তার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট
দপ্তর থেকে সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। আর এরপরই শুরু হয় লুটপাটের মহোৎসব। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনস্থ সিলেট-বিয়ানীবাজার-বারইগ্রাম
আঞ্চলিক মহাসড়কের আলীনগর অংশ থেকে এ সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার
কথা। সরজমিন দেখা যায়,
রামধা বাজার, চারখাই বাজার, দুবাগ সেতুর এপারের অংশ, কাকরদিয়া এলাকা, খাসা প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের সামনের অংশ থেকে শুরু করে বারইগ্রাম পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ভাঙ্গন
এবং গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখিত স্থানে ভাঙ্গনের তীব্রতা এতো বেশী যে, জনসাধারণ
এসব এলাকা ছেড়ে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌছছেন। তাছাড়া এই সড়কের সেতু নির্মাণের
ক্ষেত্রেও নেয়া হচ্ছে দীর্ঘসুত্রিতার আশ্রয়। বিশেষ করে বারইগ্রাম বাজারের অদূরে নির্মিতব্য
সেতুর কাজ কবে শেষ হবে, তা স্বয়ং ঠিকাদারও জানেননা। এ সেতুতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী
ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গত বন্যা ও বৃষ্টির মৌসুমে সওজের সংস্কার
কাজের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসও এস.এম জাকারিয়া।
তিনি বলেন, নির্মাণ ও সংস্কার কাজে তেমন কোন অনিয়ম হয়নি। আমরা ঠিকাদারদের কাছ থেকে
শতভাগ কাজ আদায় করে নেয়ার চেষ্টা করেছি, যোগ করেন তিনি। সওজে নিম্নমানের কাজের কারণে
সরকারের প্রায় দেড় কোটি টাকা গচ্ছা গেছে বলে মনে করেন সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ
মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অচিরেই একটি কমিটি করে অনিয়ম তদন্তের জন্য প্রতিনিধি দল পাঠানো
হবে। এদিকে গত রমজানের কিছু সময় আগে এলজিইডির
তত্বাবধানে বিয়ানীবাজার-কসবা ত্রিমুখি বাজার রাস্তার সংস্কার কাজ শেষ হয়। কাজ শেষ হওয়ার
সপ্তাহ দু’য়েক পার হওয়ার পরেই রাস্তাটিতে
বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই রাস্তার অন্তত: ৭টি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায়
অনেকটাই চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা বিয়ানীবাজার-মুরাদগঞ্জ রাস্তায়। কাজ
শেষের তিন মাস পার হওয়ার আগেই এ সড়কের দশটি স্থানে ছোট বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব গর্তের আকার ও সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে ভোগান্তি। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদার
প্রতিষ্ঠানের নি¤œমানের বিটুমিন দিয়ে কাজ করায় মাস পেরিয়ে যেতে না যেতেই সড়কে ভাঙ্গন
দেখা দেয়। ৩৬ লাখ ৭১ হাজার টাকায় সড়কের সংস্কারের কাজের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়
সিলেটের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিল্লুর রহমান এন্টার প্রাইজকে নিয়োগ দেয়। কসবা
রাস্তার কাজটিও একই প্রতিষ্টানের করা বলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে জানা যায়। ঠিকাদার
জিল্লুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছুটা বিরক্ত হয়ে জানালেন, ঠিকাদাররা
দূর্নীতি না করলেও মানুষ এসব অভিযোগ করে। সূতরাং এ বিষয়ে বলার কিছু নেই। বিয়ানীবাজার-চন্দরপুর
রাস্তাটিও এলজিইডির অধীনে সংস্কার শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সংস্কার কাজে
ব্যাপক দূর্নীতির আশ্রয় নেয়। ফলে কলেজ রোডের প্রবেশ মুখে যেতেই আর কেউ এ রাস্তা দিয়ে
পা মাড়াতে চায়না। এলজিইডির অধীনে সংস্কার কাজ হওয়া এসব প্রকল্পে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ
টাকা গচ্ছা গেছে বলে মনে করছেন ভূক্তভোগীরা। সার্বিক বিষয় নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রমেন্দ্র
হোম চৌধুরী বলেন, মুরাদগঞ্জ সড়কে এখনো আধা কিলোমিটার কাজ হয়নি। প্রতিকুল অবস্থার কারণে
সে সময় কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। ওই আধা কিলোমিটার কাজ করার সময় ক্ষতিগ্রস্থ
অংশগুলো পুনরায় সংস্কার করা হবে। কসবা রাস্তার গর্তগুলোও মেরামত করে দেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন