বাহার উদ্দিন বকুল,সৌদি আরব : গত ২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রাঙ্গনে এক মতবিনিময়
সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেদ্দা। উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সৌদি
আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত জনাব গোলাম মসীহ,প্রধান অতিথি
ছিলেন,প্রবাসী কল্যাণ
ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি। মন্ত্রী বলেন,সৌদি প্রবাসীদের রেমিটেন্স
প্রবাহ দেশের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখছে। প্রবাসীদের সুবিধার জন্যে সৌদি আরবে সোনালী
ব্যাঙ্কসহ একটি প্রাইভেট ব্যাঙ্কের শাখা খোলার প্রচেষ্টা চলছে। তাছাড়া প্রবাসী
কল্যাণ
ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, প্রবাসীরা এর শেয়ার কিনে বিনিয়োগ করতে পারবেন। জেদ্দা-মক্কার
বিপুল সংখ্যক প্রবাসী নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী
শেখ
হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, প্রবাসীরা এর অংশীদার। জেদ্দায় বাংলাদেশী
ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত দুইটি স্কুলের ভবন নির্মাণে সহায়তারও আশ্বাস দেন মাননীয় মন্ত্রী।
তিনি জানান মূলতঃ সৌদি সরকারের সাথে শ্রম-বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক কিছু বিষয়ে ফলপ্রসূ মতক্য
হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি নারী শ্রমিকের সাথে তার নিকটতম একজন পুরুষ শ্রমিক আসার ব্যবস্থা
থাকবে। প্রবাসীগণকে বাংলাদেশে
বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী মতবিনিময় সভায় বিশেষ
অতিথিগণের মধ্যে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ইফতেখার হায়দার
চৌধুরী, বিএমইটির মহাপরিচালক শামসুন্নাহার বেগম, জেদ্দার কনসাল জেনারেল একেএম শহিদুল
করীম। কনসাল আলতাফ হোসেনের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর শ্রম মোঃ মোকাম্মেল
হোসেন। কনসাল জেনারেল একেএম শহিদুল করীম জানান, ২০১৫ সালে জেদ্দা কনস্যুলেটের মাধ্যমে
১ লক্ষ ৮৯ হাজারটি সেবা প্রদান করা হয়েছে। কনস্যুলেট আয় করেছে ৩৫.৫ কোটি টাকা। সাধারণ
ক্ষমায় প্রায় ৮ লক্ষ সৌদি প্রবাসীকে বৈধ করাসহ ডিজিটাল পাসপোর্ট কার্যক্রমে সক্রিয়
সহায়তার জন্যে তিনি প্রবাসী নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। মতবিনিময়ে অংশগ্রহণকারী
প্রবাসী নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন এ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান শামীম, বীর মুক্তিযোদ্ধা
মমতাজ হোসেন চৌধুরী, কাজী আমিন আহমেদ, ইউসুফ মাহমুদ ফরাজী, আজিজুল হক, আবদুল জলীল
বেপারী,
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মার্শেল করীর পান্নু, মোহাম্মদ আরিফ, দেলোয়ার হোসেন সরকার,
মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, শেখ ফজলুল করীম ভিকু, কাজী নেয়ামুল বশির, খন্দকার আবুল কালাম
আজাদ প্রমুখ। আলোচকগণ মাননীয় মন্ত্রীকে স্বাগতঃ জানিয়ে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনার
বিষয় তুলে ধরেন। প্রবাসে বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের পড়াশোনার জন্যে স্কুল নির্মানে সহায়তা,
বিমান বন্দরে হয়রানী, প্রবাসীদের জন্যে আবাসন সহায়তা, বিনিয়োগ সুবিধা, সৌদি আরবে ব্যাঙ্কের
শাখা খোলা, কনস্যুলেটের স্থায়ী ভবন নির্মানসহ প্রবাসীদের অবসর ভাতা প্রদানের দাবী জনান।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন