সুফিয়ান আহমদ,বিয়ানীবাজার প্রতিনিধিঃ বিয়ানীবাজার পৌরশহরের
শ্রীধরায় স্বামীর হাতে নিহত
স্ত্রী আয়েশার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার
বিকেল ৩টায় শ্রীধরাস্থ তাঁর বাবার বাড়ির পারিবারিক গোরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এই ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় রোববার রাতেই মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ঘাতক
ছিদ্দিক আহমদকে সোমবার সিলেট আদালতে প্রেরণ করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী
দেয়। জবানবন্দীতে ছিদ্দিক জানায়, ‘আয়শা সারারাত ফোনে কথা বলতো। আমি
রাতে বাসায় না থাকার সুবাধে সে একাই থাকতো। ভোরে আমি বাসায় ফিরে তাকে একান্তে কাছে
পাওয়ার চেষ্টা করলে সে আমাকে পাত্তা দিত না। এ নিয়ে আয়শাকে আমার সন্দেহ হয়। আমি তাকে
অনেকবার সঠিক পথে ফিরে আসার অনুরোধ করেছি। এতে রাগান্বিত হয়ে সে আমাকে উল্টো বকাঝকা
করতো। এমনকি আমি তার যোগ্য নই বলেও সে আমাকে বলতো।’ আদালতকে ছিদ্দিক আহমদ আরো জানান,
আয়শা তার কোন কথাই শুনতোনা। উশৃংখল জীবনযাপন করত। রাতে বাসায় একা থাকার সুবাধে সে সারারাত
মোবাইল ফোনে কথা বলতো। জরুরী প্রয়োজনে তার মোবাইলে ফোন করলেই নাম্বার অপেক্ষমান দেখা
যেত। নিজের জৈবিক আগ্রহ থাকলেও স্ত্রী তাকে দূরে ঠেলে দিত। হত্যাকান্ডের কিছু আগে তিনি
আয়শাকে একান্তে কাছে পাওয়ার চেষ্টা করলে স্ত্রী অনাগ্রহ দেখায়। এতে আয়শার সাথে তার
ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে বটি দা দিয়ে একাই আয়শাকে কুপিয়ে খুন করেন তিনি। এ সময়
একদিকে জৈবিক বাসনা অপরদিকে স্ত্রী কর্তৃক অপমানের প্রতিশোধ তার মাথায় চেপে বসে। তাই
আয়শার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বটি দা দিয়ে কোপাতে থাকলে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এরপর কিছুক্ষণ
ভেবেচিন্তে বাসায় তালায় দিয়ে থানায় পুলিশের কাছে গিয়ে সমস্থ ঘটনা খুলে বলি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দেবাশীষ জানান,
হত্যা মামলার আসামী ছিদ্দিক আহমদকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায়
স্বীকরোক্তি দিতে রাজি হলে আমল গ্রহণকারী আদালত-৪ এর বিচারক আতিকুর হায়দার এর খাস কামরায়
তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি স্ত্রী আয়শা আক্তার হত্যার আদ্যপন্ত বর্ণণা করেন।
আদালতকে তিনি বলেন, আয়শা বেশীরভাগ সময় বাপের বাড়ি থাকতো। সে ছিল উচ্চাবিলাসী। আমি নামাজ
কালাম নিয়মিত পড়লেও সে ছিল খোলামেলা চরিত্রের। এলাকাবাসী জানান, ছিদ্দিক আহমদ শ্রীধরা গ্রামের আলাউদ্দিনের
ছেলে। তিনি দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তার তিন মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। প্রায়
৭ বছর পূর্বে ওই স্ত্রী মারা গেলে তিনি নিজ গ্রামেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। আয়শা আক্তারের
পিতা তাহির উদ্দিন। বিয়ের ২ বছর পরও ২য় স্ত্রীর ঘরে কোন সন্তানাদি ছিলোনা। ১ম সংসারে
জন্ম নেয়া ৩ মেয়ে একই কলোনীতে থাকলেও তারা আলাদা কক্ষে বসবাস করে। ছেলে থাকে চট্রগামে।
ঘাতক ছিদ্দিক শ্রীধরা বাজারের প্রহরী হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে। তারা বহু আগে গ্রামের
ভিটেমাটি বিক্রি করে দেয়। এব্যাপারে বিয়ানীবাজার
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জুবের আহমদ বলেন, আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আদালত জবানবন্দী গ্রহণ শেষে আসামীকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। আসামীর বাসা থেকে উদ্ধার
করা তার তিন মেয়েকে সিলেটের কতোয়ালী থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ হত্যাকান্ডের বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। এদিকে গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে নিহত আয়শা
আক্তারের লাশ তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন