
জনপ্রিয় ডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ.স.ম হান্নান শাহ বলেছেন, বর্তমান সরকার কোন বৈধ সরকার নয়। কারণ এই সরকার জনগনের ভোটে
নির্বাচিত হয় নাই। নির্বাচন কিভাবে হয়েছে তা সরকার দলীয় এক উপদেষ্টা বর্ণনা করেছেন
বলেও মন্তব্য করেন হান্নান শাহ। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আব্দুল হামিদ খান
ভাসানীর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে
এ কথা বলেন হান্নান শাহ্। হান্নান শাহ্ বলেন- সারা দেশে জেল, জুলুম, হুলিয়া, গুম ও হত্যা চলছে। এই সরকারকে কোনো বৈধ সরকার মনে করিনা। কারণ
সরকার বৈধ হয় যখন তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত
হয় নাই। তিনি বলেন, মাওলানা ভাসানী আজীবন অন্যায়, অত্যাচার আর স্বৈরাচারের
বিরুদ্ধেই কথা বলেছেন। শাসক শ্রেণী তাকে ভয় পেতেন। আওয়ামী লীগ সরকারই তাকে এখানে
বন্দী করে রেখেছিল। ভাসানীর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপি মানুষের অধিকার আদায়ে
সংগ্রাম করছে বলেও উল্লেখ করেন হান্নান শাহ্। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন শুরুই করিনি তাই
সরকারের কছে বিষফোঁড়া হয়েছি। আন্দোলন শুরু হলে যেমন কুকুর তেমন মুগুর ব্যবহার করা
হবে। সভায় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, শেখ হাসিনার উচিত জেলখানাগুলো তড়িৎ গতিতে সংস্কার করা। সেখানে
ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা। কারণ অচিরেই সে ও তার তথাকথিত মন্ত্রীরা সেখানে ঢুকবে।
আর সেখানে যারা আছে তারা রেড়িয়ে আসবে। তিনি বলেন ,শহীদ জিয়ার পরিবারের কারো
বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলে সারাবাংলায় আগুন দাউ দাউ করে জ্বলবে। ডিসেম্বর থেকে ‘ঘেরাও’ আন্দোলন শুরু হবে। প্রথমে ইউএনও
অফিস, তারপর থানা, ডিসি অফিসের পর ঢাকা ঘেরাও করা
হবে। তিনি বলেন, মওলানা ভাসানী ও শহীদ জিয়া একে
অপরের পরিপূরক ছিলেন। মওলানা ভাসানী সামরিক শাসন পছন্দ করতেন না কিন্ত তিনি জিয়াকে
সাপোর্ট করতেন। আর জিয়াউর রহমানই ভাসানীর মৃত্যুর পর তার কফিন কাঁধে তুলে
নিয়েছিলেন।জেলা বিএনপি’র সভাপতি আহমেদ আযম খানের
সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মেজর
জেনারেল (অব:) মাহমুদুল হাসান, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর
সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান
সালাহউদ্দিন টুকু,
নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, লুৎফর রহমান মতিন, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, আবদুল হাই শিকদার, জেলা বিএনপি’র সহ সভাপতি ছাইদুল হক ছাদু, যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান
জিন্নাহ, সদর থানা শাখার সভাপতি এম এ হামিদ, শহর শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক সানু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জিয়াউল হক শাহীন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সভাপতি আজমল হোসেন পাইলট, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ পাহেলী, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক একে এম মনিরুল হক, জেলা তাঁতী দলের সভাপতি শাহ আলম, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক রুঙি মেহেদী প্রমুখ। সভা
পরিচারনা করেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম
তোফা। এর আগে নেতৃবৃন্দ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর
মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। এদিকে ভাসানীর ৩৮তম
মৃত্যুবার্ষিকীতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী
পুস্পস্তবক অপর্ন শেষে বলেন, মওলানা ভাসানী যদি এই বঙ্গের
সাথে সম্পৃক্ততা না থাকতেন তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ৭১ সালে আসতো না। জাতীয় গনতান্ত্রিক দলের শফিউল আলম প্রধান ও মওলানা
ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলাউদ্দিন
মাজারে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। এছাড়াও সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো।


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন