এনায়েত হোসেন
সোহেল,প্যারিস : জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোতে পালিত হলো মহান আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস। গতকাল ২০ শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাত ৭ টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১২
টা ) ইউনেস্কো ও ফ্রান্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস যৌথভাবে এ দিবস পালনের আয়োজন
করে। এ বছর জাতিসংঘের ভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ভাষার সঙ্গে ও মাধ্যমে 'ইনক্লুসিভ' শিক্ষা। ইউনেস্কোর সদর দপ্তরের ১
নং হলে ভাষাশহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও সাংস্মৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমার
ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি গানটি সমবেত কন্ঠে
পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীত শিল্পী শাহীন
সামাদ,খায়রুল আনাম শাকিল,মহিউজ্জ্বামান
চৌধুরী ও দিয়া চক্রবর্তী। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব ফারজানা রহমানের
পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কোর বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও
ফ্রান্সে নিযুক্ত
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম,
ও ইউনেস্কোর সহকারী পরিচালক আলফ্রেড পেরেজ । আলোচনায় বক্তারা ভাষা
শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন,
পৃথিবীতে
বাংলাই একমাত্র ভাষা,
যে ভাষায় কথা বলার জন্য বাঙালিরা
নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন।তাই নিজ নিজ ভাষা ব্যবহারের প্রতি সবাইকে আরো যত্নবান
হতে হবে। তবেই শহীদদের এ বিসর্জন স্বার্থক হবে। কয়েক হাজার দেশী বিদেশী আমন্ত্রিত
অতিথিদের উপস্থিতিতে এ সময় সালাম,
রফিক,
জব্বার,
বরকতসহ ভাষাশহীদদের ছবি প্রদর্শন করা
হয়।পরে বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা ভাষার দুই বিখ্যাত কবি
রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গান পরিবেশন করা হয়। জাতিসংঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংগঠন
ইউনেস্কো ১৭ই নভেম্বর ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে
স্বীকৃতি দেন এবং ২০০০ সাল থেকে সারা বিশ্ব এই দিবসটিকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস
হিসেবে পালন শুরু করেন।এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর ও পালিত হলো আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা
দিবস।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন