জনপ্রিয় ডেস্ক : মানবতাবিরোধী
অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ
কামারুজ্জামানের রায়ের পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) শুনানি সোমবার অনুষ্ঠিত হয়নি।
সোমবার কামারুজ্জামানের রিভিউ
আবেদনের বিষয়ে আদালত তার আদেশে বলেন, ‘আগামী ১ এপ্রিল কামারুজ্জামানের
রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হবে।’ কিন্তু সরকারের প্রধান আইন
কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল আশা করেছিলেন সোমবার কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের
ওপর শুনানি শুরু হবে।
রোববার চেম্বার বিচারপতি হাসান
ফয়েজ সিদ্দিকি কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনটি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে
পাঠিয়ে দেয়ার পর অ্যাটর্নি জোনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামীকাল
সোমবার কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনটি কার্যতালিকায় আসবে, আশা করছি শুনানিও শুরু হবে।’
রোববার
অ্যাটর্নি জেনারেলের ওই মন্তব্যের পর বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া প্রচার করে সোমবার
কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হবে। কিন্তু বিকেলে সুপ্রিমকোর্টের
আপিল বিভাগের ওয়েবসাইটে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনটি আদেশের জন্য রাখা হয়। তখনই
নিশ্চিত হওয়া যায় সোমবার রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি হচ্ছে না। সোমবার
সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির বেঞ্চ
কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ১ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। এসময় আদালতে
রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। আসামি
পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মৌলভি ওয়াহেদ উল্লাহ (অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড), অ্যাডভোকেট
শিশির মো. মনির। পরে আদালত থেকে বেরিয়ে
অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রিভিউ আবেদনের শুনানিতে সময়
চেয়ে কামারুজ্জামানের প্রধান আইনজীবীর করা আবেদন বিবেচনায় নিয়ে ১ এপ্রিল দিন ধার্য
করেছেন আদালত।’ তিনি বলেন, ‘আদালত আইনজীবীদের সুবিধা-অসুবিধার
কথা বিবেচনা করেন। তাই কামারুজ্জামানের মামলার শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেনের
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সময় দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘কামারুজ্জামানের
প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন তার ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা উল্লেখ করে
আদালতের কাছে সময়ের আবেদন করেছেন। আদালত সিনিয়র এই আইনজীবীর অসুবিধার কথা বিবেচনায়
নিয়েছেন।’ অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আরো বলেন, ‘আজ
সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন শুনানি
হবে, এমনটাই আশা করেছিলাম। গতকাল রোববার চেম্বার আদালত
থেকে আমরা সেই রকমই আশা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু সেটি হয়নি।’ তিনি
বলেন, ‘গতকাল রোববার সময় চেয়ে আবেদন করেন কামারুজ্জামানের আইনজীবী খন্দকার
মাহবুব হোসেন। আবেদনে তিনি তার ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা বলেছিলেন।’ তিনি
আরো বলেন, ‘আজ আদালত কামারুজ্জামানের বিষয়ে শুনানির সময় আমার কাছে জানতে চান যে,
অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সুপ্রিমকোর্ট বারের নির্বাচনে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কি না? আমি তখন
আদলতকে বলি হ্যাঁ, মাই লর্ড, তিনি
(খন্দকার মাহবুব হোসেন) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। পরে আদালত আগামী ১
এপ্রিল এই মামলার শুনানির তারিখ ঠিক করে আদেশ দেন।’ একজন আইনজীবী
নির্বাচনে অংশ নেয়ার গ্রাউন্ডে মামলার শুনানির জন্য সময়ের আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না
জানতে চাইলে তিনি বলেন,
‘আদালত চাইলে আইনজীবীর সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিতে পারেন।’ সময়
আবেদনের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আসামিপক্ষ সময় ক্ষেপন করছে কি না এমন প্রশ্নের
জবাবে অ্যাটর্নি বলেন,
‘যুদ্ধাপরাধ মামলার শুনানিতে সবসময় তারা (আসামিপক্ষ) দেরি করার
চেষ্টা করেছেন। রায় ঘোষণার অনেক পরে তা প্রকাশ করা হয়েছে, এমনিতেই দেরি হয়েছে।’
মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি আশা
করছি আগামী ১ এপ্রিল কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসবে
এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাব
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদসহ যুদ্ধাপরাধের সকল মামলা
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হবে।’ গত বৃহস্পতিবার মানবতাবিরোধী
অপরাধে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায়ের বিরুদ্ধে
রিভিউ আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন