![]() |
আব্দুল গাফফার খান, শেখ
মুজিবুর রহমান, আব্দুস সামাদ খান
|
১.
ইতিহাস আমাদের এই বয়ান দেয় যে, পশ্চিম
পাকিস্তানিরা আমাদের উপর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক শোষণ চালাতো। কথাটা খণ্ডিত সত্য। পুরো
সত্যিটা হচ্ছে এই যে, পাঞ্জাবীরা পাকিস্তানের অপরাপর সকল
গোষ্ঠীর উপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শাসন-শোষণ চালাতো। কী
বাঙালি, কী পাঠান, কী বালুচ- কেউ
রেহাই পায়নি তাদের অত্যাচার থেকে। এই জাতিগোষ্ঠীর মানুষেরা পাঞ্জাবীদের বিরুদ্ধে
দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামও করেছে। আর তাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিন মহান নেতা।
২.
আবদুল গফফার খান ছিলেন
উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের লোক। উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে শিক্ষার বিস্তার ঘটলেও
ঐ অঞ্চলের পাঠানরা ছিল ভয়ানক রকম বঞ্চিত। গফফার খান যৌবনে এদের মধ্যে শিক্ষার আলো
ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। ইংরেজরা জানতো : এরা যতো পড়বে, ততো জানবে
আর যতো জানবে, ততো এদের শাসন করা মুশকিল হবে। ইংরেজরা
গফফার খানকে হুঁশিয়ার করে দিল, যে এই মুল্লুকে শিক্ষা
বিস্তারের নামে এইসব চুদুরবুদুর চলবে না। গফফার খান তা শুনলেন না। ফলশ্রুতিতে তাকে
জেলে পোরা হল। এমনকি তাকে রাজবন্দীর মর্যাদাও দেয়া হল না। চোর-ডাকাতের মতই তার
হাতে-গলায় বেড়ী পরিয়ে রাখা হত।
জেলে থাকতেই তিনি বুঝলেন, শিক্ষা
বিস্তারের মত নির্দোষ কাজও সম্ভব না, যদি ইংরেজশাহী এখানে
থাকে। ইংরেজদের তাড়ানোই তার আপাত লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।
গফফার খান আবার মুসলিম লীগের
সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না। ছিলেন গান্ধীর অহিংস মতবাদের বিশেষ
অনুসারী। ৪৬ এর নির্বাচনে যখন মুসলীম লীগ ইসলামের ধুয়া তুলে সীমান্ত প্রদেশে জিততে
চায়, গফফার খানের ক্যারিশমার সামনে তা ম্লান হয়ে যায়। নির্বাচনে কংগ্রেস
জিতলে ইসলাম বিপন্ন হবে, মসজিদে মসজিদে উলুধ্বনি শোনা
যাবে, মসজিদ ভেঙে মন্দির হবে--- হেন প্রপাগাণ্ডা নেই যা
তারা চালায় নি। তাতেও সীমান্ত প্রদেশের পাঠানদের মন গলেনি। ওরা তাদের হৃদয়রাজ্যের
রাজা গফফার খানের কথামত কংগ্রেসেই ভোট দিয়ে আসে। কথা ছিল, যে প্রদেশগুলোতে কংগ্রেস জিতবে, সেগুলো ভারতের
অন্তর্ভুক্ত হবে। আর মুসলিম লীগ জিতলে পাকিস্তানের। গফফার খান ‘পাকিস্তান’ ধারণাটিকেই
মনেপ্রাণে ঘৃণা করতেন। কেননা, পাকিস্তান ধারণাটির সাথেই
এক রকম সাম্প্রদায়িকতার ছোঁয়াচ লেগে আছে।
এদিকে মুসলীম লীগ ও ব্রিটিশ
সরকার চাচ্ছিলো, সীমান্ত প্রদেশ যেহেতু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ--- এটা পাকিস্তানের
অন্তর্ভুক্ত হোক। এরা প্রস্তাব দিল, সীমান্ত প্রদেশে
গণভোটের আয়োজন হোক যে এর অধিবাসীরা ভারতে যোগ দিতে চায় না পাকিস্তানে। গফফার খান
এক ভয়ানক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পান। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘আপনারা আমাদের একদল
নেকড়ের মুখে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছেন।’
গফফার খান গণভোট বর্জনের আহবান
জানান। তার আশঙ্কা ছিল,
গণভোট হলে মুসলীম লীগের গুণ্ডারা ব্যাপক দাঙ্গাহাঙ্গামা, লুটপাট চালাবে। এটাই ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। গণভোটের
নামে যা অনুষ্ঠিত হয়, তা ছিল স্রেফ প্রহসন। ঠিক একই ভুল
করেছিলেন ৭০-এ মাওলানা ভাসানী। নির্বাচন বয়কট করায় মূলধারার রাজনীতি থেকে তার দল
হারিয়ে যায় চিরতরে, আর বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত
প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয় বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ। ঐ গণভোটে পাকিস্তান জয়যুক্ত হয়,
পাকিস্তান জয়যুক্ত হয়, পাকিস্তান
জয়যুক্ত হয়।
১৪ই আগস্ট পাকিস্তান স্বাধীন
হয়। যদিও এই স্বাধীনতা এসেছিল মূলত পাঞ্জাবীদের জন্য। সামরিক, প্রশাসনিক---
সব ক্ষেত্রে পাঞ্জাবিরা একচেটিয়া রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল। কাজেই, সীমান্ত প্রদেশের পাঠান ও বালুচরা এই স্বাধীনতাকে সত্যিকার স্বাধীনতা
বলে মেনে নিতে পারেনি। একে তো পাঠানরা ভারত-পাকিস্তান ভাগ হবার সময় ভারতে যোগ
দেবার পক্ষে রায় দিয়েছিল, তার উপর অনেক আগে থেকেই এরা ও
বালুচরা মিলে স্বাধীন পাখতুনিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল।
পাকিস্তান স্বাধীন হবার পর এই আন্দোলন আরো জোরদার হল।
এদিকে সীমান্ত প্রদেশকে
পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত রাখা পাঞ্জাবি শাসকগোষ্ঠীর জন্য দরকার ছিল। বাংলা যেমন
কৃষি সম্পদের ভাণ্ডার ছিল,
সীমান্ত প্রদেশ ছিল খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার। বাংলার মতই এই
প্রদেশগুলোতেও পাঞ্জাবীরা ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসন-শোষণ চালাতো।
পাকিস্তানের অন্য জাতীয়
নেতাদের মত গফফার খানকেও শাসকগোষ্ঠী শান্তিতে রাজনীতি করতে দেয়নি। পাকিস্তান আমলের
একটা দীর্ঘ সময় তার কেটেছে কারাভ্যন্তরে, নয়তো গ্হবন্দী হয়ে। এর মধ্যে যখনই
মুক্ত আলো-বাতাসে এসেছেন, ছুটে বেড়িয়েছেন সীমান্ত প্রদেশের
পথে-প্রান্তরে। কখনও তাকে নিজ প্রদেশেই ঢুকতে দেয়া হয়নি। এতোসব প্রতিকূলতার মধ্যেও
তার সংগ্রাম থেমে থাকেনি।
১৯৬৪ সালে তার শারীরিক অবস্থার
অবনতি দেখে সামরিক জান্তা তাকে মুক্তি দেয়। জেলে মরলে ব্যাপারটা শাসসকগোষ্ঠীর
ইমেজের জন্য ভাল হত না। তাকে দুটো অপশন দেয়া হয়। হয় দেশত্যাগ করো নয়তো সামান্য
সুস্থ হলেই তোমাকে আবার গ্রেপ্তার করা হবে। এইখানেই গফফার খান তার জীবনের দ্বিতীয়
ভুলটি করেন। তিনি দেশত্যাগ করে আফগানিস্তান চলে যান। এরই সাথে স্তিমিত হয়ে যায়
পাঠানদের স্বাধীকার সংগ্রাম।
৭২ সালে তিনি যখন দেশে ফিরে
আসেন, ততোদিনে পূর্ব বাংলা পাঞ্জাবিদের তাড়িয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করেছে। মজার ব্যাপার, বাঙালিরা সবার পরে
স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু করেও, একমাত্র জাতি হিসেবে
স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। যেটা আর কোন জাতিগোষ্ঠী পারে নি।
যেখানে গফফার খানের ব্যর্থতা, সেইখানেই
বঙ্গবন্ধুর সাফল্য। অসংখ্য হুমকি-ধামকি, লোভ-প্রলোভন
সত্ত্বেও উনি দেশ ছেড়ে যাননি। প্রয়োজনে মাটি কামড়ে পড়ে থেকেছেন। তবুও প্রাণভয়ে
মাথা নত করেননি।
পাঠানদের কাছে গফফার খান এখনো
কিংবদন্তি হয়ে আছেন। কিন্তু ইতিহাস বড় নির্মম। ইতিহাস তাকে ‘সীমান্ত গান্ধী’ তকমা
দিয়েছে। কিন্তু গফফার খান সেদিন প্রাণভয়ে দেশ না ছাড়লে ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা
হত। ইতিহাস তাই তাকে ব্যর্থ নেতা হিসেবেই মনে রেখেছে।
৩.
সীমান্ত প্রদেশে ছিলেন আবদুল
গফফার খান। আর বেলুচিস্তানে ছিলেন আব্দুস সামাদ খান। যিনি'বালুচ
গান্ধী' হিসেবে সমধিক পরিচিত। পাঠানদের মত এই বালুচদেরও
মাতৃভাষা পশতু। সংস্ক্তি, জীবনাচার, শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস---সব দিক দিয়েই এই দুই জাতির মধ্যে অদ্ভুত মিল
দেখা যায়।
আব্দুস সামাদ খান রাজনীতিতে
অতো আগ্রহী ছিলেন না। তিনি চেয়েছিলেন সমাজের আমূল সংস্কার। বুঝেছিলেন, শিক্ষার
বিস্তার ছাড়া এই সংস্কার সম্ভব নয়। তাই নিজ উদোগে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্কুলের পর
স্কুল।
মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে যখন
সর্বাত্মক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, সেই সময় তিনি সাড়া না দিয়ে পারলেন
না। জড়িয়ে পড়লেন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে। অতি অল্পদিনেই বালুচ জনগণের মুখপাত্র হয়ে
উঠলেন তিনি।
সেটা ১৯২৮-২৯ সালের ঘটনা। এরপর
থেকে প্রায় পুরো সময়টাই তিনি বিভিন্ন মেয়াদে জেল খেটে গেছেন। মুসলীম লীগের
পাকিস্তান দাবির তিনি ছিলেন ঘোর বিরোধী। তিনি চেয়েছিলেন, কংগ্রেসের
নেতৃত্বেই মুসলমানরা স্বাধীনতা সংগ্রামে বিজয় ছিনিয়ে নিক। মুসলীম লীগ আর ব্রিটিশ
সরকারের যোগসাজশে তা আর হয়নি।
পাকিস্তান স্বাধীন হয়।
স্বাধীনতার পরপরই তার নেতৃত্বে বালুচ জনগণ স্বায়ত্তশাসন চেয়ে বসে। যথারীতি জাতির
জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ'র আদেশে দেশদ্রোহের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৫৪ সালে তিনি
মুক্তি পান।
মুক্তি পেয়ে তিনি আবার
আন্দোলনে নেমে পড়েন। আর সব প্রাদেশিক নেতার মতই আইয়ুব শাহীর সময়টা তাকে জেলে
কাটাতে হয়। দেশজুড়ে তখন চলছিল ত্রাসের রাজত্ব। আন্দোলনাকারীদের বিনা বিচারে
নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল। এমনকি ঈদের জামাতে বোমাবর্ষণ করতেও শাসকগোষ্ঠী
দ্বিধা করেনি। সংবাদপত্রগুলোও ভয়ে মুখ বন্ধ করে ছিল। ফলে, বেলুচিস্তানে
কী হচ্ছে না হচ্ছে- বাইরে থেকে কেউ জানতেও পারেনি।
আইয়ুব গেলো, ইয়াহিয়া
এলো। নয় মাস স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পাঞ্জাবীদের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত হল বাংলাদেশ।
ইয়াহিয়াও গেলো, এলো ভুট্টো। নামে গণতান্ত্রিক হলেও ভুট্টো
দেশ চালাতেন সামরিক কায়দায়। বিরোধীদলের নেতাদের গুম-খুনে তার জুড়ি ছিল না। তার
আমলে অগুণতি বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী গুপ্তহত্যার শিকার হয়। এরকমই এক গুপ্তহত্যার
শিকার হন ৯০ বছর বয়সী বালুচ গান্ধী।
৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের
সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার ছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশ স্বাধীন হলে অনেকেই(সবাই কিন্তু না)
তাকে মাথায় তুলে নাচবে,
কিন্তু না হলে অল্প কিছু মানুষজন হয়তো সিমপ্যাথী দেখাবে। বাকি
বিরাট অংশ মুজিবকেই দুষবে এই গণ্ডগোলের জন্য। বলবে, মুজিব
নিজে মরলো, আমাদেরকেও মারলো। পাঠ্যবইয়ে তাকে যুগ যুগ ধরে
চিহ্নিত করা হবে গাদ্দার হিসেবে।
হ্যাঁ, প্রশাসনে
ছিলেন তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুলের মত ত্যাগী ও কুশলী নেতা।
সমরে ছিলেন ওসমানী, জিয়া, খালেদ,
তাহের। এরা প্রত্যেকেই যার যার দায়িত্বটুকু পালন করেছেন। কেউ কেউ
তার চেয়ে অনেক অধিক করেছেন। কিন্তু এদের কারো কাঁধেই ইতিহাসের দায় ছিল না। দায়টুকু
ছিল বঙ্গবন্ধু্র কাঁধে।
বাঙালির ভাগ্য ভালো যে এরা
বঙ্গবন্ধুর মত একজন নেতা পেয়েছিল। যিনি নিজের মাথায় সমস্ত রকম ঝুঁকি নিয়েও
দেশবাসীকে স্পার্টাকাসের মত স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলেন। পাঠান কিংবা বালুচদের এই
ভাগ্য ছিল না।
সততা, সাহস,
দেশপ্রেম- এগুলো সেকালের নেতাদের মধ্যে খুব বিরল ছিল না।
বঙ্গবন্ধুর মধ্যে যেটা ছিল- সেটা হল স্বপ্ন দেখানোর ক্ষমতা। এই ক্ষমতা ছিল বলেই
উনি আপেক্ষিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিতে পেরেছেন। এই ক্ষমতা ছিল
বলেই সামান্য প্রাদেশিক নেতা থেকে পরিণত হয়েছেন আন্তর্জাতিক নেতায়। যেটা সীমান্ত
গান্ধী পারেননি, বালুচ গান্ধীও পারেননি।
আজ বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে
তাকেও হয়তো ‘বাংলার গান্ধী’ পরিচয় করিয়ে
দেয়া হত ইতিহাসের বইয়ে। সেটা হত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কৌতুক।
সেকালে স্বাধীকারের কথা বলা
ছিল পাপ, স্বাধীনতার কথা বলা মহাপাপ। বঙ্গবন্ধু সেই মহাপাপই করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু
সেই মহাপাপ করেছিলেন বলেই আজ আমরা নিজেদের বাংলাদেশী পরিচয় দিতে পারি। আর কোন
পরিচয়ের আমাদের প্রয়োজন হয় না।
এমনকি সাফল্যের প্যারামিটারে
বিবেচনা করলেও বঙ্গবন্ধু উপমহাদেশের সবচেয়ে সফল নেতা। মহাত্মা আন্ধী অখণ্ড ভারত
চেয়েছিলেন; পাননি। জিন্নাহ মুসলমানদের একটা অখণ্ড আবাস চেয়েছেন। পেয়েছেন, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেটা ভেঙে গেছে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বপ্ন
দেখেছিলেন, সেটা পেয়েছেনও। সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেটা
টিকেও আছে। ক'জন নেতার ভাগ্যে এমনটা ঘটে?
আর এখানেই বঙ্গবন্ধু অনন্য।
(তথ্যসূত্রঃ “ব্রিটিশবিরোধী
স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলমানদের ভূমিকা”, সত্যেন সেন)



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন