মোঃ কামরুজ্জামান, ফ্রান্স :
একটি দেশের ভূখণ্ডে যা কিছু ঘটে,
তা সাংবাদিকদের কল্যাণে দেশ তথা জনগণ জানতে
পারে। তাই একটি দেশের উন্নয়নের অংশীদারিত্বে সাংবাদিকদের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই দিক
থেকে সাংবাদিক সমাজ অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। আমি যেহেতু ফ্রান্স থেকে মতামত প্রকাশ
করছি, তাই উদাহরণ স্বরূপ ফ্রান্স সাংবাদিকতা
বা বাক্- স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কতটুকু স্বাধীনতা দিয়েছে, এর
উদাহরন টানলেই লেখাটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে হবে। সর্ব প্রথম কথা হচ্ছে
১। The constitution and governing institutions in
France support an open press environment.
২। The Declaration
of the Rights of Man and of the Citizen, of constitutional value, states, in
its article 19: The free communication of thoughts and of opinions is the most
precious rights of man: any citizen thus may speak, write, print freely, save
[if it is necessary] to respond to the abuse of this liberty, in the cases
determined by the law.
অন্যদিকে, ৩। The
Press Law of 1881, as amended, guarantees freedom of the press with no
exceptions.
শুধু ফ্রান্সে নয় বাংলাদেশের সংবিধানেও
৩৯ ধারার ২ নং অনুচ্ছেদের খ অংশে বলা আছে “সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা
দান করা হইল”।
এখানে মনে রাখতে হবে সব আইনেই কিছু
বাধ্যবাধকতার নিয়মাবলী থাকে। তাই সাংবাদিক
সমাজের স্বাধীন ভাবে
সংবাদ প্রকাশ করাটা, তাদের সংবিধানিক অধিকার।
এই অধিকার খর্ব করার অধিকার কারোর নেই।
প্র্রকৃত পক্ষে, একজন সাংবাদিকের প্রধানতম কাজ হচ্ছে জনগণের সামনে বস্তুনিষ্ঠভাবে সত্য সংবাদ
পরিবেশন করা । এই বস্তুনিষ্ঠ কোন ঘটনা বা কাহিনী সাংবাদিক
মূল সারাংশ এর মাধ্যমেও বুঝতে পারে, আবার বিস্তারিত ভাবেও তুলে ধরতে পারে। একজন সৎ সাংবাদিকের ওপর এ দায়িত্বটি আরও বেশি বর্তায়। দেশ ও সমাজের সচেতন
মানুষের শ্রদ্ধা অর্জনে এর কোন বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা কোন
বিবেকবান মানুষের কাছে কাম্য নয়। সংবাদ প্রকাশে হস্তক্ষেপ করার অর্থই হল প্রগতিশীল মুক্তিকামী মানুষের উপর আঘাত হানা। কিন্তু আজ শুধু বাংলাদেশে
নয়, সুদূর প্রবাসেও স্বাধীন ভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করার শত
চেষ্টা করলেও অনেক ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় সাংবাদিকদের। বিশেষ করে প্রবাসে
এর নোংরামিটা আরও বেশী। আমি এই বিষয়টাকে অজ্ঞতাকেই দায় দিব । কারণ কোন বিবেকবান বা
শিক্ষিত মানুষ এই নোংরামি করতে পারে না। আমরা
জানি প্রবাসে সব পরিবার থেকেই লোকজন আসে । কিন্তু যে পরিবার থেকেই আসুক না কেন, এটা
কোন মুখ্য বিষয় না। এই প্র্রবাসীরাই দেশের অর্থ জোগানের প্রধান চালিকা শক্তি। এই দিক
থেকে তারা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু তাই বলে প্রবাসে এসে নিজেকে ধরাকে সরা
মনে করলে চলবে না । এখানে মনে রাখা দরকার, প্র্রতিটি প্রবাসীই কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব
করছে। তাই সর্বোপুরি কারোর আচার আচরন, ভাষা
প্র্রয়োগ ও কর্মের দ্বারা প্রমাণিত হবে কারোর
বংশ মর্যাদা ও পারিবারিক পরিচিতি। কিন্তু প্রবাসে কিছু সংখ্যক নিচু মন মানসিকতার লোকের
কৃত কর্মের জন্য, আমাদের সমাজকে নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এদের কর্মকাণ্ডে আমাদের
লজ্জায় মাথা নিচু করতে হয়। এখানে একটি প্রবাদ প্রমাণিত হয়, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বাড়া বানে। এদের কাছে সভ্যতা
আর নোংরামি একই সুত্রে গাঁথা। আর আরেকটি বিষয় বাংলাদেশের চেয়ে প্রবাসে বেশী লক্ষণীয়
যে, সমাজের কেউ কোন ভাল পদে উন্নীত বা ভাল কাজে অবদান রাখলে, কিছু কিছু হিংসাত্মক ও
হীনমন সম্পন্ন লোক আছে, সে গুলোকে দেখে সহ্য
করতে পারে না। আর সংবাদ মাধ্যমে কারোর প্রশংসার
খবর আসলে ত আর কথাই নাই ! এই সব দুষ্ট প্রকৃতির
লোক এমন নোংরামি বা এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে
যে, যাতে ভবিষ্যতে সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ ত দূরের কথা , যে ব্যক্তি মহতি উদ্যোগ বা ভাল কাজ করছেন , সে তার মান
সম্মান নিয়ে বাঁচতে পারলেই বাঁচে ! শুধু তাই নয় কোন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও, তাদের
মন মত সংবাদ বা নিজে একটু হাইলাইট হতে না পারলে, এরা সংবাদকে নিয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ করতেও
দ্বিধাবোধ করে না । সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও এই নির্বোধরা সংবাদে এটা সংযোজন বা বিয়োজন
করতে হবে বলেও নির্দেশনা দিতেও লজ্জিতবোধ করে না। এটা সরাসরি সাংবাদিকদের স্বাধীনতার
উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ! পরোক্ষ ভাবে বলতে গেলে নিজে সংবাদে হাইলাইট না হলেই যত সব বিপত্তি,তার
যোগ্যতা থাকুক আর না থাকুক। সর্বোপুরি সংবাদে
তাদের মনগড়া কথা না লিখলেই সমস্যা। এই সব নির্বোধ
ব্যক্তিদের মনে রাখা উচিত কারোর সংবাদ প্রকাশে
হস্তক্ষেপ করার অধিকার তাদের নাই। আর প্রবাসে মামার বাড়ীর আবদারের মত একটা বিষয় হচ্ছে
, কোন সংবাদ প্রকাশ পেলে এক শ্রেণীর লোক আছে
তাদের নাম , পদবি ও তার কর্মকাণ্ড সংবাদে প্র্রকাশিত হচ্ছে কিনা, তা দেখা ও সমালোচনা
করা। আর যদি কোন কারণে না থাকে,তাহলে সব দোষ সাংবাদিকের । আসলে তাদের কাছে ব্যক্তিগত
নাম ফুটানিটাই আসল। এরাই স্বাধীন ভাবে সংবাদ প্রকাশের বড় প্রতিবন্ধকতার
পরিবেশ সৃষ্টি করে। তাদের এসব নোংরা কাজের জন্য সংবাদ প্রকাশ করা থেকে অনেককে বিরত থাকতে হচ্ছে।
তারপরেও প্রবাসে সাংবাদিকেরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন স্বাধীনভাবে কাজ করার। এই
সব নিম্ন মানের লোকদের মনে রাখা উচিত,একটি সংবাদ প্রকাশ মানে শুধু তাদের কোন অনুষ্ঠান
বা কার্যকলাপ প্রকাশ করা নয়, প্রশাসনকে ও জানান দেওয়া যে দেশের অভ্যন্তরে কি কার্যকলাপ
সম্পন্ন হচ্ছে! অনেক বিষয় সরকার বা প্রশাসনের
দৃষ্টির আড়ালে ঘটলেও সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে তারা অবগত হয় । তাইতো বলা হয় সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। সাধারণত
সংবাদ প্রকাশের বাধা দেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার শুধু সংশ্লিষ্ট সেই দেশের প্রশাসনের। তাই
প্রশাসনের বিধি নিষেধ ব্যতীত, সংবাদ পরিবেশনায়
কারোর অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না ।
তাই সুস্থ ও স্বাধীনভাবে সংবাদ
পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রবাসে সকলের নোংরামি ও হিংসাত্নক মনোভাব পরিহার করে
ফিরে আসতে হবে সুস্থতার পথে, মঙ্গলের
পথে । সাথে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার মনোভাব
থেকে বের হয়ে আসতে হবে। অপরদিকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে,
সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিনা বাধায় তথ্য প্রাপ্তির অধিকার ইত্যাদির
ক্ষেত্রে, সাংবাদিকদের সহায়তায় সবাইকে আন্তরিক
হতে হবে। একই সাথে স্বাধীন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে যে কারোরই নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। তাহলেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বজায় থাকবে এবং
সর্বোপুরি দূর প্রবাসে আমাদের সমাজের মংগল হবে।
সুত্র : মোঃ
কামরুজ্জামান, সাংবাদিক ও কলাম লেখক ।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন