মোঃ কামরুজ্জামান,বিশেষ
প্রতিনিধি,ফ্রান্স : জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কোর গঠনতন্ত্র প্রণয়নের
৭০তম বার্ষিকী পালন হিসেবে প্যারিসে অবস্থিত ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে গত
১৬ ও ১৭ ই নভেম্বর ২০১৫ তারিখে এক সম্মেলন
অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সম্মেলনে ইউনেস্কো’র ১৯৫টি সদস্য রাষ্ট্র, আট সহযোগী
সদস্য রাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, গণমাধ্যম ও
এনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কোর মহাপরিচালক আইরিনা বোকোভা । এর মধ্যে সম্মেলনে গতকাল ১৭ই নভেম্বর ২০১৫ মঙ্গলবার সকাল দশটায় লিডার্স ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়।
লিডার্স ফোরামে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও সরকারী
ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। ইউনেস্কোর লিডার্স ফোরামে
ফরাসি
প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ তার বক্তব্যে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তিনি যে যুদ্ধ
ঘোষণা করেছেন, তিনি তা আবার পুনঃব্যক্ত করেছেন । তিনি বলেন শিল্প সাহিত্যের নগরী ফ্রান্সে কখনোই সন্ত্রাসকে
বরদাশত করা হবে না । তিনি আরও বলেন মানবতার জন্য ফ্রান্সের দরজা
সব সময় খোলা, কিন্তু কখনোই সন্ত্রাসকে মেনে নেওয়া হবে না । সন্ত্রাসীরা কাপুরুষের মত নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে।আমরা সন্ত্রাস বন্ধ করতে
দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
সংস্থাটির
মহাপরিচালক আইরিনা বোকোভা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউনেস্কোর
লিডার্স ফোরামে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।কিন্তু
প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী ফ্রান্স
সফর বাতিল করায়, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে তার প্রতিনিধি
হিসেবে সদ্য নির্বাচিত ইউনেস্কোর ভাইস প্রেসিডেন্ট শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ
অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের ৩৮তম অধিবেশনের সহসভাপতি
নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। তিনি ২০১৫-২০১৭ সময়কালে ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
ইউনেস্কোর সম্মেলনে
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তার বক্তৃতায়
গত ১৩ই নভেম্বরে ফ্রান্সে
সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা করেন এবং এই বর্বরতম সন্ত্রাসী হামলায় যারা নিহত
হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন বাংলাদেশের সরকার ও তার জনগণ সব
সময় ফ্রান্সের সাথে রয়েছেন । তিনি একই সাথে
বাংলাদেশের অবস্থান সব সময় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, এই কথা দৃঢ়ভাবে
ব্যক্ত করেন। এসময় শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের সাথে ইউনেস্কোর
সম্পর্ক ও বাংলাদেশের
অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক অগ্রগতির বিষয়েও
তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তৃতায় বাংলাদেশে
শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।তিনি আরও
বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা
বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত
দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে মূলভিত্তি বিবেচনা করা হচ্ছে।এসময় তিনি শিক্ষা
খাতে বিভিন্ন অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিনে শেখ হাসিনার সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে আসছে। এ বছর তারা প্রায় ৩৩ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ ২০১৬ সালেও ৩৫ কোটি পাঠ্যবই বিতরণ করবে । এ সময় তিনি এই ধরণের কার্যক্রমকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে বছরের প্রথম দিনে শেখ হাসিনার সরকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল ছাত্রছাত্রীকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে আসছে। এ বছর তারা প্রায় ৩৩ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ ২০১৬ সালেও ৩৫ কোটি পাঠ্যবই বিতরণ করবে । এ সময় তিনি এই ধরণের কার্যক্রমকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন ১ কোটি ৩৪ লাখ দরিদ্র শিক্ষার্থী সরকারের উপবৃত্তির সুবিধা পাচ্ছে, যার মধ্যে ৭৫ ভাগই ছাত্রী। এছাড়া
নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে
বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, কারিগরি-বৃত্তিমূলক ও
তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার প্রসার এবং মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের বিষয়সমূহ
তুলে ধরেন। নারী শিক্ষার মাধ্যমেই বাল্যবিবাহ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধ এবং
সমাজ উন্নয়নে নারীর ভূমিকা বিষয়ে গণমানুষের মনোভাব
পরিবর্তন সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে সরকার
নারী শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে চলেছে।
শিক্ষামন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় ইউনেস্কোর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ।তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব ধরণের সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি তার বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় ইউনেস্কোর গৃহীত কর্মসূচিও বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় ইউনেস্কোর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন ।তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব ধরণের সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি তার বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলায় ইউনেস্কোর গৃহীত কর্মসূচিও বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে মাল্টার
প্রেসিডেন্ট মারি লুইসি, স্লোভাকিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মিরোস্লাব লাজেক,আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলাহম আলিয়াব বক্তব্য রাখেন ।এছাড়া আমেরিকা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পক্ষে ক্রিস্টাল নিক্স হিন্স ছাড়াও
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানগণ
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য সম্মেলনটি গত ১৩ই নভেম্বর প্যারিসে সংঘটিত বর্বরতম সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতদের উৎসর্গ করা
হয় ।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন