রনি মোহাম্মদ,(লিসবন,পর্তুগাল): পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের মার্তিম
মনিজের কেন্দ্রস্থল বাঙ্গালী অদ্যসিত রুয়া দো বেনফরমসোর স্থানীয় কাজা দা কবিলা
মিলোনায়তনে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে ২৯ই ডিসেম্বর
অনুষ্টিত হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী
দল,বিএনপি পর্তুগালের
৪৫তম বিজয় দিবসের আলোচনা সভা। পর্তুগাল বিএনপির প্রতিষ্টাতা সভাপতি অলিউর রহমান
চৌধুরির সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব মিয়ার পরিচালনায়
সভায় বক্তব্য
রাখেন পর্তুগাল বিএনপির সিনিয়ার সহসভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার, সহসভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা কাজী এমদাদ মিয়া, সহসাধারন
সম্পাদক আমির সোহেল, পর্তুগাল বিএনপি সিনিয়ার নেতা সাইফুল
ইসলাম শাহীন, সাবেক ছাএদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার আরিফ মোল্লা,
মুজাহিদুল ইসলাম বাবু সহ সভায় বক্তারা বলেন স্বাধীনতার পর
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা আওয়ামী লীগ সরকার যদি করতো তা হলে আজ সংখ্যা নিয়ে
কোন বিতর্ক থাকতো না। কিন্তু তারা সেটা করেনি। কিছু হলুদ মিডিয়ার সাংবাদিকরা এই
সংখ্যা-বিতর্ক নিয়ে ভুল সংবাদ পরিবেশন করছে। এই বিতর্কের কথাটা বললে শহীদদের অবদান
বা মুক্তিযুদ্ধের মহিমা ক্ষুন্ন হয় না। এতেই প্রমান হয় যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আওয়ামী
লীগের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণ
করেছে তারা। অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের সেই তালিকার সহ
ইতিহাস প্রকল্প গঠন ও দলিলপত্র
সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন শহীদ জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় গঠন করেন
বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাকারী জিয়াউর
রহমানের দল বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষশক্তি কিনা সেই সার্টিফিকেট এখন যারা দিচ্ছে
যাদের সক্ষমতা থাকা সত্বেও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়নি। সাইফুল ইসলাম শাহীন, ইঞ্জিনিয়ার আরিফ মোল্লা বলেন, শহীদদের তালিকা
প্রনয়নে ক্ষমাহীন ব্যর্থতার জন্য আমাদের সবারই লজ্জিত হওয়া উচিত। জাতির শ্রেষ্ঠ
সন্তান লাখো শহীদদের মূল্যায়নের কথা বলে বেগম খালেদা জিয়া যখন সেই
নির্মম সত্যকে
উচ্চারণ করেছেন। আর সত্য বলতেই চেতনাধারীদের শিবিরে কাঁপন ওঠে কেন ? আফসোস এদেশের একশ্রেণির দালাল আছে যারা মনে করে আমাদের স্বাধীনতা
ভারতের দয়ার দান। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, লাখ
শহীদদের রক্তস্রোত, নারীদের অশ্রুধারাকে মুছে ফেলতে চায়।
এরাই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়াকে পাকিস্তানের চর বলেছেন। এরাই সেক্টর কমান্ডার
মেজর জলিলকে শৃঙ্খলিত করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধ পরবর্তীতে অগনিত
মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে যারা, এরা করা? এদের সঠিক ঠিকানা কি -দেশবাসী তা জানে। সভাপতি অলিউর রহমান চৌধুরি,
আওয়ামী লীগের সমলচনা করে বলেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল মেয়াদের তাদের
শাসনকালে দেশে পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল। আজ
লেখক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে বিদেশিরা এমনকি ভিন্নমতের
মানুষের ওপর আজ সশস্ত্র চোরাগোপ্তা হামলা চলছে। ধর্মীয় সমাবেশ, মসজিদ থেকে শুরু করে অন্যান্য উপাসনালয় বোমা হামলায় আক্রান্ত হচ্ছে।
পুলিশের বেষ্টনির ভেতরেও ঘটছে বোমা হামলা, নারী নিরযাতনের
মতো সন্ত্রাসী ঘটনা। কিন্তু তারা সেই সন্ত্রাসী, জঙ্গিদের
দমন না করে বিরোধীদলের ওপর দোষ চাপিয়ে আজ নির্যাতন চালাবার পথ বেছে নিয়েছিল।
অনুষ্টানের শেষে মরহুম শহীদ জিয়াউর রহমান, আরাফাত রহমান
কোকো, মুক্তিযুদ্ধের নিহত শহীদ সহ দেশের শান্তি এবং
সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করেন লিসবন বায়তুল মোকারম জামে
মসজিদের ২য় খতিব হাফেজ মোহাম্মদ হাছান। এছাড়াও সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পর্তুগাল
বিএনপির ক্রিড়া সম্পাদক মুকিতুর রহমান সেলিম,পর্তুগালর
বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, সাবেক ছাএদল নেতা আবু তাহের,
ফরিদ আহমেদ, সানি আহমেদ, আকবার হোসেন, শাহ নাজমুল হোসেন, ইকবাল হোসেন, সাইয়পুর রহমান সহ প্রমুখ।







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন