মোঃ কামরুজ্জামান, ফ্রান্স: আজ মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম গৌরব ও অহঙ্কারের দিন।
দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে
১৯৭১ সালের এই দিনে পৃথিবীর মানচিত্রে
আত্মপ্রকাশ ঘটে আমাদের এই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের।
এ দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গৌরবের ও সন্মানের। ৩০ লক্ষ শহীদের আত্নত্যাগ আর ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম ও অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের ফসলের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের এই
স্বাধীনতা, বিজয়ের এই দিনে আমি তাদের গভীর
শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। বিজয়ের এই
মহান দিনে আমি সেইসব অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
করছি, যারা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জীবন উৎসর্গ ও জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে ছিনিয়ে
এনেছেন আমাদের এই বিজয়। এই জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম ত্যাগ ও বীরত্বগাথা ইতিহাস
চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিজয়ের এই দিনে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পিতা মরহুম আবুল
কাসেমকে। আমি গর্বিত বিজয়ের এই দিনে আমার পিতাকে নিয়ে। এই স্বাধীন দেশের জন্য, স্বাধীনতা
অর্জনের জন্য আমার পিতা এক ফোঁটা রক্ত বিন্দু হলেও বিসর্জন দিয়েছেন। অতি সামান্য হলেও
এই বিজয় অর্জনে আমার পিতার অবদান রয়েছে। তাই বিজয়ের এই দিনে আমার পিতা আমার গর্ব ও অহংকার। বিজয়ের এই দিনে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবর রহমানকে, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা বা অর্জনের জন্য নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ
করছি শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা
প্রদানকারী পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর তৎকালীন বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর
রহমানকে, তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার
ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সাথে আমি বিজয়ের এই দিনে শ্রদ্ধাভরে
স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনী ওসমানীকে,
যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষ, ছাত্র,
আনসার, পুলিশ, ইপিআর
এবং বাঙালি সেনাসহ সব বাহিনীর লোক নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার
জন্য অসীম সাহস, বীরত্ব, অত্যন্ত
ধৈর্য, দক্ষতা, সতর্কতার সঙ্গে জাতির
বিপর্যয়ের সময় মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একই
সাথে আমি বিজয়ের এই দিনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি আমাদের বাঙালি
জাতীর গর্ব ও অহংকার সাত জন বীরশ্রেষ্ঠ ০১। ক্যাপ্টেন
মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, ০২। সিপাহী হামিদুর রহমান, ০৩। সিপাহী
মোস্তফা কামাল, ০৪। নৌ বাহিনীর
ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
০৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, ০৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ, ০৭ ।
ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখকে। একই সাথে
আমি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের
প্রতি, যারা অসীম বীরত্ব দিয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। সাথে সাথে যাদের অবদানের কাছে
আমাদের পুরো বাংলাদেশের জনগণ ঋণী, তারা হচ্ছেন
তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় দেশের অভ্যন্তরে
ও বাহিরে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের থাকা, খাওয়া ও নিজের জীবন বাজি
রেখে সহয়তা করেছেন। বিজয়ের এই দিনে যাদের কল্যাণে আমরা
এই স্বাধীন দেশ পেয়েছি, আমরা তাদের যেন ভুলে না যাই । আমাদের মনে রাখতে হবে এই বিজয়
আমাদের সকল বাংলাদেশী নাগরিকের ,এ বিজয় আমাদের সকলের । আমরা যেন এই বিজয়কে রাজনৈতিকভাবে
ব্যবহার না করি। সব কিছুর ঊর্ধ্বে থাকবে, আমাদের
এই বিজয়, এই কামনা থাকবে সকলের প্রতি।
মোঃ কামরুজ্জামান
সাংবাদিক ও কলাম লেখক ।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন