রনি মোহাম্মদ(লিসবন,পর্তুগাল): ভাগ্যটা একটা লটারির মতোই কি...??? যখন আমাদের
পরিকল্পিত জীবন ছকের সাথে
যদি মিলে যায় তবে আমরা হই মহাসুখী। হয়ত অনেকের মনে প্রশ্ন মহাসুখী কেন..? কারন সেখানে
আমাদের কর্মের সাথে ভাগ্যের যোগ থাকে। লটারি তো আর সবাই পায়না যদিও অধিকাংশ মানুষই
লটারি টিকিট কাটে। লটারি একটি অপশন। লটারির উপর ভরসা করে সবাই চলেনা তেমনি ভাগ্যটাকে
লটারির মতো ভেবে আমাদের লক্ষ্যর তপস্যা, সাধ্য অনুযায়ী করা উচিত... তেমনি শিরিন ফেরদাউসের
রুপন্তীর সেই গল্পের ২য় পর্ব.......... কলিং এর আওয়াজ শুনে রুপন্তীর মনে
ভালো লাগা ছেয়ে গেল। মনে মনে ভাবছে কাল অপর্নর শরীর খারাপ ছিল তাদের কোন গল্প করা হয়নি।
বলেছে আজ তারা কথা বলবে। বাসন্তী রংয়ের শাড়ীটা পরেছে। অর্পনের প্রিয় রং। কত প্রেম,
কত অভিযোগ তার জমে আছে আজ সব সব বলা হবে। তাই ছুটে গিয়ে দরজা খুলে অপর্নের দিকে তাকিয়ে
মিষ্টি একটা হাসি দিল। অর্পন খুব দ্রুত হেঁটে বেডরুমে ঢুকে চেন্জ করেই খাবার টেবিল
এ বসে গপ গপ করে খেয়ে বারান্দায় গিয়ে দুই তিনটা সিগারেট খেল খুব আয়েশ করে। তারপর
বেড রুমে ঢুকে টিভি নিউজ দেখে লাইট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লো। টেবিলে বসে রুপন্তী একা
একা খেয়ে নিল।নিরবে নিরবচ্ছিন্ন অশ্রু জল বড্ড লবনাক্ত। তাই তরকারীর স্বাদ টা রুপন্তী
আজ উপলব্ধি করতে পারেনি। বরের জন্য খুব সোহাগ করে রান্না করেছিল। শাড়িটা ভিজে গেছে
চোখের জলে। যন্ত্রণা র সাথে আপস চলবে না। রুপু ডায়েরী টেনে একটা কবিতা লিখলো। তোমার
আঁচল হারিয়ে গেছে সবুজ জলের স্রোতে শেওলা মাটি মন ময়ূরে কপালে টিপ পরে। তোমার গহীন
আমার স্বপ্ন উঁচু নিচু পাহাড়, তোমার নদী আমার সাগর মিলছেনা তার আকার। কোন সুদূরে যাবে
তুমি সব সুদূরে আমি, মনতোলা সুরে গাইবো আমি শুনবে না গো জানি। রুপন্তীর মন ভরে গেল।
আহ...!!!!!! কি আনন্দ সৃষ্টির কি আনন্দ !!! রুমে ঢুকে রুপন্তী তাকিয়ে দেখে গভীর ঘুমে
আচ্ছন্ন অর্পন। খুব মায়া লাগে সারাদিন মানুষ টা ভীষণ খেটে মরে তাই আমার খোঁজ ই রাখতে
পারেনা। থাক না একটু ঘুমিয়ে থাকুক। খুব ভোরে উঠে রুপন্তীকে কি ছুটাছুটি অর্পন অফিস
যাবে। সকালের নাস্তা টা ঠিক ভাবে না হলে অর্পন মন খারাপ করে আহা মানুষটার মুখ টা কালো
দেখতে বড্ড কষ্ট হয় রুপন্তীর, তাই সকালের স্নিগ্ধ সুন্দর ঘুমের জলান্জলী রুপন্তীর
মন কে কষ্ট না দিলে শরীর টা ভীষণ কষ্ট পায়। কারন রুপন্তী ভীষণ ঘুম কাতুরে। আজ দুজনে
এক সাথে নাস্তা করবে। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকবে যেন অর্পন দেখতে পেয়ে মনে করে তাকে
ডেকে নেয়। অর্পন ডেকে ডাইনিং এ বসালে রুপন্তীর কেমন রানী রানী অনুভব হয়। আজ সে রানী
হবে ! মহারানী! আহা! অর্পন উঠছে না কেন..? অফিস যাবে না..? আর কতক্ষন এভাবে বসে থাকবো।
প্রচন্ড খিদা ও দিকে অপেক্ষা দুটি মিলে রূপন্তী অস্থির। হা আসলো এবার মহাশয়। কাল রাত
ক্লান্তির চাপ এ কথা রাখতে পারেনি বলে অর্পন নিশ্চয়ই খুব লজ্জিত তার কপাল কুচকানো
মুখ দেখেই বুঝা যাচ্ছে। না না থাক রুপন্তী কিছু মনে রাখেনি।এসব ভাবতে ভাবতে হঠাত্ রুপন্তী
খেয়াল করলো অর্পন খাবার শেষ করে বেসিন এ হাত
ধুয়ে রুম এ চলে গেল অফিসের জন্য তৈরী হতে।
আকাশ ছূয়ে বৃষ্টি হল। অপেক্ষার অপমান বড্ড জ্বালাতন করে। বুকের ভেতর ছটফট, ছুটাছুটি।
দু ফোঁটা চোখের জল রুপূকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল কোন এক গহীন সূদূরে। যেখানে নোনাবালি জল
খেলা করে মাটির গন্ধে বুকভরে যায় লালন করা স্বপ্নের খেলাঘরে। মহুয়া ফুলের সুবাস স্বপ্ন
ভাঙার জলে গড়াগড়ি করে প্রান সন্চার করে। রুপন্তী গাঢ় শক্ত করে মাথা উঁচু করে উঠে
বসলো চোখের জল মুছে। রুপন্তী ঘুম কাতুর ছিল ভীষণহয়তো তাই দুপুরের ঘুমটা বড্ড চমৎকার
হয়েছে আজ। গতকাল শেষ বিকেলে ফোন দিয়েছিল রিমি। আজ তার বাসায় যাওয়ার কথা। ভীষন ভাবে
ধরেছে। যেতেই হবে সেই ফেলে আসা ছোট বেলার বন্ধু বলে কথা। মন্দ না। গিয়ে কিছুটা সময়
কাটানো যায়। চুলটা বেঁধে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই অর্পনের ফোন..... অর্পনঃ হ্যালো
কি বেপার আজ একটা ও ফোন করলে না? রুপন্তীঃ ওহ তুমি চাও আমি ফোন করি? অর্পনঃ ও আচ্ছা
এই অবস্থা তবে রুপন্তীঃকিছু বলবে? অর্পনঃ চলো আজ ডিনারটা বাহিরে করি। রুপন্তীঃচলো কোথায়
খাবে? অর্পনঃ তূমি বসে বসে ভাবো কোথায় বসে খেলে তোমার ভালো লাগবে। গত দুদিন রুপন্তীর
মনে যে অভিমান এর সুতো জাল বুনছিল এক ঝলকে তা ঝরে গেল।মনের কানায় কানায় নেচে উঠলো
কচি সবুজ ঘাসের বেড়ে উঠার এক দূরন্তপনা। রুপন্তী ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে নিজেকে
দেখলো। সে দেখতে এতটা খারাপ না যে অর্পন তাকে অবহেলা করতে পারে। তার মনটা এতটা ভালোবাসাহীন
না যে অর্পন তাকে ছেড়ে থাকতে পারে। অর্পন এর মতো মানুষ হয় না।অর্পন তাকে খুব খুব
ভালোবাসে।তাকে খুব বুঝে। রুপু কালো টিপ পরে । সেই বাসন্তী রংয়ের শাড়িটা রুপন্তী আজ
আবার পরল।ভীষন সুন্দর করে পরল।যে বাঙালীনারী সুন্দর শাড়ী পরতে জানে না। তার মনে প্রেম
থাকতে পারে না। প্রেম এর সাথে শাড়ীর মিলনসূত্র আছে। রুপন্তী প্রেম জানে ভালোবাসতে পারে
তাই শাড়ি ও পরতে জানে। ফোনটা বেজে উঠলো আর দেখলো (চলবে......)।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন