রনি মোহাম্মদ (লিসবন,
পর্তুগাল ) : রূপকথার কথা-কল্পের মত
যেমন_ ছোটবেলায় পড়েছিলাম কত রূপকথা, সেখানে ছিল অনেক রাজা আর রাণীদের কথা“এক যে ছিল রাজা আর এক যে
ছিল
রাণী''... রূপকথার সেসব গল্প আমরা সবাই জানি। হয়তো সেসব রূপকথা, শুধুই নিছক গল্প
হয়তো কিছু সত্য, নয়তো কথা-কল্প ! মাঝে মাঝে তবুও হয়তো এই সকল গল্প কখনও কিছু মানুষের
জীবন এবং মনের সাথে মিলে যায়..... তেমনি এক জন নারী শিরিন ফেরদাউস ও তার জীবনের পথ
চলার রুপন্তীর এক গল্পের কথা_ পর্ব -১। সন্ধ্যার অবকাশ এ অবগাহন করে যখন তোমায় উপলব্ধি
করি তুমি তখন হয়তো জলছবি।তোমার নেশায় আমার উন্মুক্ত মন প্রতিধ্বনি হয়ে তুমি ফিরে
আসো বার বার চোখের জলে জলাশয় তবুও তোমায় কুড়িয়ে পাওয়া যায় না তখন আমি কি বা করতে
পারি শুধু তোমার অবয়ব টায় মনের আয়নায় টিপ পরিয়ে দিয়ে একটি অপেক্ষার কথোপকথন গাই।
আমি তোমার উপেখ্খিত নয় তা আনুধাবন করেই আমার অগ্রযাত্রা।তুমি আমায় অপেক্ষায় রাখো তোমার
নিত্য নতূন কারূকারযে যা তোমার বিলাসিতার মহল।তাই আমি ও তোমায় নিড়িয়ে ফেলি না।আমি ভীষণ
হিংসুটে কিছুটা স্বার্থপর ও। এই হিংসা আর স্বার্থ টা হল তোমার বিলাসিতার মহলে আমি হাজার
মিলিয়ন কেনভাস খুঁজে পাই যা ভেনগগ ও খুঁজে পায়নি। তুমি আমার কবিতা নয় একেকটা পুস্তক।
কি হলোতো? এবার আসো গল্প করি। এটা আমার কথা নয় রুপন্তীর কথা। চোখের কোনায় জল মুছে
উঠে বসল চা খেতে হবে। মাথাটা ঝিমিয়ে উঠছে। এক কেতলি
চায়ের সাথে শুধু একটা কাপ কি চমত্কার
। অনেকদিন আগেই বেলকনি থেকে একটা চেয়ার সরিয়ে ফেলেছে।দরকার হয় না। শুধু
শুধু ধূলি পড়ে। কেতলি উঠি য়ে চা ঢেলে রুপন্তী অনবরত কাপ এর পর কাপ চা খেয়েই যাচ্ছে।কোথাও
কোন সাড়াশব্দ নেই। রুপন্তীর বাড়ির এদিক টা কিছু গাছগাছালির আড়ালে পড়ে গেছে। দিন রাত
কেমন নিঝুম নিঝুম। এখানটায় বসলে রাস্তার ধারে একটা কুকুর দেখা যায় । একাকী !!! সেও
কি রুপন্তীর মতো তবে হিংসা আর স্বার্থ নিয়ে প্রহর গুনে? সত্যি এই কুকুরের অপেখখা র
চাহনির সাথে রুপন্তীর কোন তফাৎ নেই। বিকালের আলোটা নিভে নিভে আসছে, টানা তিন ঘন্টা
এখানে বসে একাই চায়ের কেতলি সাবাড় করল। হা হা হা হা। কেন হাসলো রুপন্তী? মনে হল সারাদিন
একবারও হাসা হয়নি।সে বেঁচে থাকতে চায় তাই একা একাই হেসে নিল। চেয়ারটা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতেই
দূর থেকে কুকুর টা ও অকারনে ঘেউ ঘেউ করে উঠলো।রুপন্তী আর কুকুরের অদ্ভুত মিলের সূত্রপাত
আবার একবার নাড়া দিয়ে উঠলো। প্রত্যেক প্রানের মাঝে বাঁচার সংগ্রাম। সন্ধ্যার আলোটায়
মানুষের সাথে মানুষের এক অদ্ভুত টানের অনুভূতি হয়।রুপন্তীর অনুভূতি ও সন্ধ্যার গন্ডির
ভেতর অতলে যাচ্ছে।বেলকনির রেলিং এ হাত রেখে খোলা চুলে দূরে বহূদূরে লাগামহীন দৃষ্টি
তে ক ফোঁটা চোখের জল রূপন্তীর অস্তিত্ব কে আরো সজাগ করে দেয়। সবুজ রংয়ের কষ্ট গুলো
তার সমস্ত ইন্দ্রিয়কে লাল এ লাল করে লাল সবুজের মিশ্রণে প্রচন্ড টান অনুভব করে রপন্তীর
ছুটে যেতে ইচ্ছা করে অপলক চোখে ছুঁয়ে, বুলিয়ে ,কথার গল্প ছড়িয়ে রঙিন মেঘের বৃষ্টি
ঝরাতে।আকাশের মেঘগুলিতো সাদা আর ঘোলাটে ওখানে রংয়ের মিশ্রন নেই । হঠাৎ একথা মনে হতেই
রুপন্তী ঘোর ঝেড়ে নিজেকে শক্ত করল।ওদিকে কলিং বেল টা বেজেই যাচ্ছে টিং টিং টিং।অর্পনকে
আজকাল বেশ স্মাট দেখাচ্ছে । কালো টি শার্ট এ চমৎকার লুকিং।দেখেই মনটা ভালো লাগায় ভরে
যায়।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন