জনপ্রিয় ডেস্ক. গোসল এমন
একটি কাজ যা আমাদের দেহকে শুধু পরিষ্কারই করেনা, দেহের যত ক্লান্ততা থাকে সবকিছু নিমিষেই দূর করে দেয়।
নিজের স্বাস্থ্যকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে ও সবসময় সতেজ থাকতে প্রতিদিন গোসল
করার উপকারিতা আমরা সকলেই জানি। অবাক হলেও সত্যি গোসলের সময় এমন কিছু ছোট ছোট ভুল
আমরা করে থাকি যা নিশ্চিতভাবে আমাদের সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যহানির কারণ। চলুন জেনে
নিই ভুলগুলো সম্পর্কে।
শরীর মাজুনি পরিবর্তন না করা
অনেকেই গোসল করার সময় শরীর
মাজুনি ব্যবহার করে থাকেন। তা হতে পারে ছোট তোয়ালে কিংবা ছোট প্লাতিক স্ক্রাবার
কিংবা শুকনো সবজির খোসা থেকে তৈরি করা মাজুনি। কিন্তু এই দুটি জিনিসেই ক্রমাগত
জমতে থাকে অনেক ব্যাকটেরিয়া। আপনি যাই ব্যবহার করেন না কেন তা ৩ থেকে ৪ বারের
বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয় কিছুতেই। অনেকেই অনেক দিন ধরে একটি শরীর মাজুনি বারবার
ব্যবহার করে থাকেন। এক্ষেত্রে সবসময় গোসলের পর ফুটন্ত গরম পানি দিয়ে মাজুনি
পরিষ্কার করুন।
প্রতিদিন ভুল পণ্য ব্যবহার করে শরীর পরিষ্কার
আমরা প্রতিদিন শরীর পরিষ্কারের
জন্য ব্যবহার করি বিভিন্ন ধরণের সাবান, লিকুইড বডিওয়াশ, স্ক্রাব ইত্যাদি। কিন্তু
প্রতিদিন এই দ্রব্যগুলোর ব্যবহারে শরীরের ত্বক আরও বেশি তৈলাক্ত হয়ে যাওয়ার
সম্ভবনা থেকে যায়। তখন তৈলাক্ত দেহে আরও বেশি ময়লা আটকে গিয়ে দেহে
ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমন বাড়ায়। অতিরিক্ত ক্ষার যুক্ত সাবানে বিবর্ণ হয়ে পড়ে
ত্বক। তাই প্রতিদিন শরীরে সাবান, স্ক্রাব ব্যবহার না করে
১-২ দিন পর পর ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে অল্প ক্ষারীয় বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন।
গোসল করার আগে চুল না আঁচড়ানো
আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গোসল
করার আগে চুল আঁচড়াই না। কিন্তু নিয়ম হল প্রতিদিন গোসল করার আগে চুল ভালোমত
আঁচড়ে নেয়া। কারণ এতে করে চুল কম পড়বে ও চুলে জট পাকাবেনা। তাছাড়া চুলে
কন্ডিশনার ব্যবহার করার পর একটি মোটা ব্রাশের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিতে পারেন
এরপর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলে একটুই জট হবে না।
গোসল করার সময় দাঁত ব্রাশ করা
অনেকেই আছেন গোসল করার সময়
দাঁত ব্রাশ করে থাকে। কিন্তু এই কাজ করা একেবারেই উচিত না। কারণ আপনি একসাথে দুই
কাজ করছেন এবং ফলে সঠিক ভাবে ব্রাশ করতে পারছেন না। তাই আপনার দাঁতেরও মারাত্মক
ক্ষতি হচ্ছে। টিমোথি চেজ (ডিএমডি) এর পরামর্শ অনুযায়ী, সম্ভব হলে প্রতিদিন অন্তত ২ মিনিট ইলেকট্রিক টুথব্রাশ
দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা উচিত।
প্রতিদিন চুল শ্যাম্পু করা
আমরা অনেকেই আছি যারা প্রতিদিন
চুল শ্যাম্পু করে থাকি। কিন্তু প্রতিদিন শ্যাম্পু করার ফলে অনেকের মাথার ত্বক আরও
বেশি তৈলাক্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়। আবার অনেক সময় বেশি শুষ্কও হয়ে
যায় চুল। তাই ২ দিন পর পর শ্যাম্পু করা উচিত। এতে করে আপনার চুল থাকবে ভালো ও
মাথার ত্বকের তেল ভাব চুলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দিবে। আবার বেশি দেরি করে শ্যাম্পু
করলেও কিন্তু হবে না। তাতে মাথার ত্বকে ময়লা জমে যাবে।
গরম পানি দিয়ে গোসল করা
ঋতুতে যখন শীত চলে আমরা অনেকেই
তখন গরম পানি দিয়ে গোসল করে থাকি। মাঝে মাঝে গরম পানি দিয়ে গোসল করা আমাদের
দেহের জন্য ভালো, কিন্তু
অতিরিক্ত গরম পানি এবং প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে গোসল করা ঠিক না। প্রতিদিন গরম
পানি দিয়ে গোসল করলে আমাদের দেহের ত্বকে চুলকানি দেখা দিতে পারে এবং দেহের চামড়া
শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। বেশি সময় গরম পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বক খসখসে হয়ে পড়ে
এবং মাথায় গরম পানি দিলে চুল পড়ে যায়।
তোয়ালে দিয়ে শরীর বেশি জোরে মোছা
আমরা অনেকেই গোসলের পর তোয়ালে
দিয়ে খুব জোরে ঘষে ঘষে শরীর মুছে থাকি। কিন্তু এইভাবে শরীর মুছলে তা দেহের ত্বকের
জন্য ক্ষতিকর ও ত্বক শুষ্ক করে দেয়। তাছাড়া বিশেষ করে নারীরা গোসলের পর তোয়ালে
দিয়ে চুল অনেকক্ষণ পেঁচিয়ে রাখে এই কাজটিও করা ঠিক না। গোসল শেষ হওয়ার সাথে
সাথেই চুলের পানি ঝেড়ে নিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে চুল শুকাতে দিন।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন