জনপ্রিয়
ডেস্ক : বাংলাদেশ
জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
বলেছেন, ২০ দলীয় জোট সোমবার সারাদেশে হরতাল ঘোষণার পর সরকার টালমাটাল হয়ে গেছে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। নেতাকর্মীদের আটক করছে। আজ(রোববার)
সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব
কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটকে দেশের কোথাও সমাবেশ করতে দেয়া হবে না-
আওয়ামী লীগের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী আহমেদ বলেন, আওয়ামী
লীগকেও কোথাও সমাবেশ করতে দেয়া হবে না। গতকাল আওয়ামী লীগ
নেতা মোহাম্মদ হানিফ বলেছেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান
বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে বিএনপিকে দেশের কোথাও সভা সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
এর জবাবে রিজভী আজ
প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের মালিকানা কী আপনারা মৌরসীপাট্টা করে নিয়েছেন? তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, বিএনপির সমাবেশে বাধা
দিলে আওয়ামী লীগও দেশের কোথাও নির্বিঘ্নে সমাবেশ করতে পারবে না। জনগণের সম্মিলিত
শক্তিতে তা প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, শনিবার
মধ্যরাতে বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে
তার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মির্জা আব্বাসের বাসায় পুলিশ
তল্লাসী চালিয়েছে। সরকার নাকি কোনোকিছুতেই ভয় করছে না, খুব
স্বস্তিতে আছে বলে দম্ভোক্তি করছে। তাহলে
দেশব্যাপী এই গ্রেফতার অভিযান কেন? রিজভী বলেন, কারণ এই
অবৈধ সরকার আন্দোলনের সামান্য আওয়াজেই পতনের ভয়ে
আঁতকে উঠছে। সেজন্যই নির্দয় দমন-পীড়ণের পুরনো কৌশল অবলম্বন করে গণধিকৃত সরকার
তার ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। বিএনপির এই নেতা
বলেন, পেশিশক্তি ও জিহ্বার ধার দিয়ে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী দুঃশাসনের রক্তাক্ত
থাবা বিস্তার করেছেন। গাজীপুরে বিএনপি চেয়ারপারসনের জনসভায় বাধা দেয়ার জন্য এই
ক্ষমতা জবর দখলকারী সরকার যে হীন নোংরা আচরণ করলো তা কেবলমাত্র ঘাতক, পীড়ক, অন্যায়কারী, অবৈধ
দখলদাররাই করতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি'র
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে সিপিবি'র
কেন্দ্রীয় নেতা রূহীন হোসেন প্রিন্স বলেন, সরকারের অসহিষ্ণু
আচরণ অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই উস্কে দিচ্ছে।প্রিন্স
মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম
চেতনা-গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার স্বার্থেই মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দাবিদার
সরকারকে অবিলম্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় গনফ্রন্টের
সমন্বয়ক জনাব টিপু বিশ্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ একটি স্বৈরাচারী সরকার। একে
ক্ষমতাচ্যুত করতে আন্দোলন করা ছাড়া বিকল্প পথ নেই।
এদিকে,আজকের সংবাদ
সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, জবরদখলকারী এই সরকার
জনতাকেই শত্রুপক্ষ মনে করে, তাই বেগম জিয়ার লাখো লাখো
মানুষের ঢলকে তারা কোনমতেই সহ্য করতে পারে না। বিভিন্ন জেলায় বেগম
জিয়ার সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে বিপুল লোক সমাগম দেখে প্রতিহিংসায় জর্জরিত হয়ে
প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং যুবলীগ, ছাত্রলীগ
ক্যাডারদের দিয়ে দেশব্যাপী উন্মত্ত
তান্ডব চালাচ্ছে। রিজভী বলেন, যে
প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের সহজাত অধিকারগুলোকে নির্মম দলনের
কষাঘাতে শয্যাশায়ী ও মরণাপন্ন করেছেন, তিনি
কখনোই দেশের মানুষের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন