ফয়সাল আহাম্মেদ দ্বীপ সাংবাদিক,সংগঠক মানবাধিকারকর্মীঃ রুপকথার
কোন গল্প নয় কিন্তু রুপকথার কোন গল্পই এর থেকে বড় নয়, জীবন সংগ্রামে মানুষ পৃথিবীর
এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়ায় কেউবা জীবন জীবিকার তাগিদে কেউবা উন্নত বাসযোগ্য
সমাজের সন্ধানে আবার কেউবা নীজ দেশে নীজের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে। দিনটি ২২ই
মার্চ ২০১১, এ যেন বুক ছিড়ে হৃদপৃন্ডটা বের হওয়ার মতো একটা দিন। মায়ের মুখটা মনে পড়ছে
না ঐ মূহর্তটা কেমন লাগছিলো, মায়ের দিকে তাকাতে পারছিলাম না কান্নায় বুকটা ভেসে যাচ্ছিল।
ঘর ছাড়লাম তারপর দেশ, বাংলাদেশী থেকে হয়ে গেলাম প্রবাসী। ইউরোপ নিয়ে এক সময় মনে নানা
প্রশ্ন, জল্পনা-কল্পনা, মনের অজান্তেই ছবি আকতাম। কল্পনার রঙ্গে আকা সেই ছবি আর বাস্তবতা
এ যেন আকাশ মাটি পার্থক্য। যখন কেউ প্যারিস নগরীকে সপ্নের নগরী হিসাবে আখ্যায়িত করে
নিতান্তই ভুল করেনি। সামাজিক অব্যবস্থাপনা, কলহ, মাদকের ছড়াছড়ি, আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী
আর সন্ত্রাসীদের দহরম মহরম তখনই সিদ্ধান্ত নেই দেশ ছাড়ার, নীজ দেশের বাহিরে অন্য কোন
দেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের। ভাগ্য প্রসুর কিংবা বাবা-মা, প্রিয়জনদের দোয়া আর ভালবাসায়
কোটি মানুষের হৃদয়ে যেই শহরটি সেই স্বপ্নের শহর প্যারিস এর আমি এখন স্থায়ী বাসিন্দা।
দেশ থেকে ১০ হাজার মাইল দুরে বলেই হয়তো দেশকে যে এতো ভালবাসি তা ফুটে উঠে চোখে মুখে।
কিছুতেই ভুলতে পারি না বাঙ্গালী আর বাঙ্গালীয়ানা । উন্নত জীবন-যাপন, নতুন নতুন প্রযুক্তি
কোন কিছুই ভুলিয়ে রাখতে পারে না, ক্ষণে ক্ষণে স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে গ্রামের সেই মেঠো
পথ, মাঠ, ঘাট আর এ পাড়া ওপাড়ায় ঘুরে বেড়ানো দিন গুলোর কথা। প্যারিস শহরের পিচে ঢাকা
মসৃণ পথ, আর আমার গায়ের কাচা সড়ক, বৃষ্টির দিনে কাদায় পরিপূর্ণ আকা বাকা পথ মনের জীর্ন
কুঠিরে বার বার উকি মারে। প্যারিসের সেন নদী আর আমার গায়ের গুংগুর পার্থক্যটা হয়তো
বোকামী, সেন নদী অসংখ্য ইতিহাসের সাক্ষী, গুংগুর হয়তো ইতিহাসের পাতায় খুজে পাওয়াটা
বড়ই দূর্লভ, কিন্তু ছোট্ট হৃদয়ের পটে আকা সেই ছবিটা যে বার বার কাছে নিয়ে যেতে চায়।
প্যারিসের সাথে হয়তো বাংলাদেশের অনেক মিল রয়েছে, কি পাঠক অবাক হলেন ? অবাক হবারই কথা
কোথায় প্যারিস আর কোথায় বাংলাদেশ ! প্যারিস সারা বিশ্বের আধুনিক নগরীগুলোর অন্যতম আর
বাংলাদেশ সবে মাত্র কিছু দিন হলো তাও মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত হচ্ছে। প্যারিসের
সাথে বাংলাদেশের তুলনা বড়ই বেমানান। আর না ঘুরিয়ে পেছিয়ে মুল কথায় আসি , ধারণা করা
হচ্ছে প্যারিসে বর্তমানে ৫০ হাজার বাংলাদেশী অভিবাসী রয়েছে, এখানে রয়েছে বাংলাদেশী
সকল রাজনৈতিক দল গুলোর শাখা প্রশাখা, নানা সামাজিক, আঞ্চলিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে
প্রায় ১৪০টির মতো। বিভিন্ন উৎসব পার্বণে বাংলাদেশী সংস্কৃতি তুলে ধরা হয় ভিন দেশীদের
কাছে। ধর্মীয় উৎসবগুলোও পালন করা হয় যথারীতি ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্য্যের মধ্য দিয়ে। যেন
সব কিছু মিলিয়ে একটা মিনি বাংলাদেশ। এখানকার প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নেও
রাখছেন বিশাল ভূমিকা যার ফলে সরকারের রিজার্ভ ফান্ড আজ ২৫ মিলিয়নে দাড়িয়েছে। সব কিছু
থাকলেও হৃদয়ে প্রাণ নেই, কি যেন একটা অভাববোধ অনুভবে বাসা বেধে আছে, শুন্যতা আর হাহাকার
নিস্তেজ করছে প্রতিনিয়ত, বয়স আর দায়িত্বের ভারে নূয়ে পড়লেও সোজা হয়ে দাড়িয়ে আছি বুকে
লাল সবুজের অদৃশ্য পতাকা নিয়ে। হৃদয়ে লালন করছি আর স্বপ্ন দেখছি একটি স্বপ্নের সোনার
বাংলার।
Post Top Ad
Responsive Ads Here
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৫
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
Post Top Ad
Responsive Ads Here
Author Details
জনপ্রিয়২৪ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল। বিশ্বজুড়ে রেমিডেন্স যোদ্ধাদের প্রবাস জীবন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে। স্পেনে বাংলাভাষী প্রবাসীদের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন