বাহার উদ্দিন বকুল,জেদ্দা,সৌদি আরব : আগামী ২৪ নভেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে হাতে
লিখা পাসপোর্টের মেয়াদ। এরপর থেকে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ছাড়া কোন এয়ারলাইন্সে
ভ্রমণ করা যাবে না। এমআরপি বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থান জানাতে এবং সচেতনতা সৃষ্টির
লক্ষ্যে গত ৮ই নভেম্বর জেদ্দা
কনস্যুলেটে রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাথে
প্রেস ব্রিফিং-এ রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ্ জানান এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৫% এমআরপি
সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো ও বলেন, সৌদি সরকারের তথ্যমতে এদেশে ১৩ লক্ষ
বাংলাদেশী রয়েছে। ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ১১ লক্ষ এমআরপি সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট আছে ২
লাখের মতো। সম্পন্ন হওয়া ১১ লাখের মধ্যে রিয়াদ দূতাবাস থেকে ৪ লাখ ১১ হাজার,জেদ্দা
কনস্যুলেট থেকে ২ লাখ ৫৩ হাজার, আইরিশ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং অবশিষ্ট পাসপোর্ট ঢাকা থেকে সরাসরি হয়েছে বলে তিনি
জানান। বিপুল সংখ্যক সৌদি প্রবাসীর এমআরপি সম্পন্ন করতে দূতাবাস/কনস্যুলেটে
সাপ্তাহিক ছুটির দিনসহ রাতে পর্যন্ত কাজ হয়েছে জানিয়ে রাষ্টদূত বলেন, বর্তমানে কাজের চাপ কমে এসেছে তাই প্রায় দুই লাখ বাকী থাকার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির
জন্যে মিডিয়াসহ প্রবাসী কম্যুনিটির প্রচারণার আহ্বান জানান তিনি।
এমআরপি সম্পন্ন হওয়া বিপুল সংখ্যক পাসপোর্ট বিতরণের
অপেক্ষায় পড়ে আছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, রিয়াদ দূতাবাসে ৩৫ হাজার এবং জের্দ্দা কনস্যুলেটে ৩০ হাজার
এমআরপি বিতরণের অপেক্ষায় আছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনের যেকোন সময় এলে
পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে বলে তিনি জানান।
প্রেস ব্রিফিং-এ রাষ্ট্রদূতের সাথে উপস্থিত ছিলেন জেদ্দাস্থ
কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করীম,কাউন্সিলর মোকাম্মেল হোসেন, কনসাল আছিয়া খাতুন,কনসাল আলাতাফ হোসেন। কানসাল আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায়
সাংবাদিকগণের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কনসাল জেনারেল এ.কে.এম শহিদুল করিম এবং
কনসাল পাসপোর্ট আছিয়া খাতুন।
প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁরা বলেন- রোহিঙ্গাদের ঠেকাতে তিন
স্তরের চেকিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সৌদি আরবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত
ভ্রাম্যমান ইউনিট যাচ্ছে এবং এমআরপি সম্পাদন করে তা পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে
দূতাবাস এবং কনস্যুলেটে তেমন চাপ নেই, যারা এখনো বাকী আছেন, তাদেরকে এমআরপি-র আওতায় আনতে নানাভাবে প্রচারকার্য চালানো
হচ্ছে। ২৪ নভেম্বর, ২০১৫ইং এর
মধ্যে এমআরপি না হলে সৌদি আরবে চাকুরির কোন সমস্যা হবে না। তবে কোন এয়ার লাইন্সে
ভ্রমণ করতে পারবে না।
আইরিশ জমা নিয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার, অথচ বিতরণ করেছে মাত্র ৬৭ হাজার। অবশিষ্ট এমআরপি বিতরণ
কিভাবে হবে? তাছাড়া
আইরিশের সার্ভার বন্দ করা হয়েছে ২০/২৫ দিন আগেই, অথচ তারা এখনো পাসপোর্ট জমা নিচ্ছেন। এ বিষয়ে
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ
বলেন, বিষয় নিয়ে খোজঁ খবর নিচ্ছেন তাঁরা। তিনি আরো জানান, প্রবাসীদের দুর্ভোগ ও দীর্ঘসূত্রীতা
কমাতে সৌদি আরব দূতাবাসে এমআরপি ছাপানোর ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন
প্রধানমন্ত্রী। বর্তমানে ঢাকা থেকে এমআরপি পেতে ২/৩ মাস সময় লেগে যায়, দূতাবাসে ছাপানোর ব্যবস্থা হলে এক
সপ্তাহ বা তারও কম সময়ে প্রবাসীরা পাসপোর্ট হাতে পাবেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূতা
বলেন খুব শীঘ্রই ছাপানোর সুযোগ হবে বলে তিনি আশাবাদী।
প্রেস ব্রিফিং-এ রিপোর্টারগণের মধ্যে উপস্থি ছিলেন, এমওয়াই আলাউদ্দিন, চ্যানেল আই; সোহেল রানা, বাংলা ভিশন; মাসুদ সেলিম, এনটিভি; বাহার উদ্দিন বকুল, এসএ টিভি; রুমি সাঈদ, চ্যানেল আই; সাজেদুল ইসলাম, এটিএন বাংলা; এবং অনলাইন মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধিগণ।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন