রনি
মোহাম্মদ :
প্রতিবেশী
দেশের ইচ্ছা পূরণে ও স্বার্থে কোনো দেশের এভাবে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেয়ার নজির
বিশ্বের ইতিহাসে বোধকরি খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুধু ‘সুসম্পর্কের কারণে’ কিংবা ‘রাজনৈতিক সমর্থনের
বিনিময়ে’ বর্তমান
আমাদের সরকার একের পর এক যা করছে, তার খেসারত কিন্তু
দেশের জনগণকেই দিতে হবে এক দিন। ভারতের সাথে সরকারের বন্ধুত্ব গভীর থেকে গভীর করতে
গিয়ে বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতার মাশুল দিল বাংলাদেশ..! যার
ফলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি নাগাদ ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটানা কেন্দ্র
থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করবে বাংলাদেশ। আপাদের মনে করিয়ে দিতে চাই
এই বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণের মালামাল পরিবহনে বিনা মাশুলে ‘ট্রানজিট’ সুবিধার দেয়
বর্তমান সরকার এবং এর ফলে ভারত সরকারের সাথে কথা ছিল তাদের কাছ থেকে সুবিধামতো
মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। কিন্তু গত কাল (০৯-০১-২০১৬) বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকায়
দেখলাম ত্রিপুরা সরকারের কাছ থেকে এখন বর্তমান মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিদ্যুত
কিনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল
হামিদ এবং ত্রিপুরার বিদ্যুৎমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে দাম ঠিক করলো বাংলাদেশ সরকার। বর্তমানে
ভারত থেকে আনা বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি গড় মূল্য পড়ছে চার টাকা।
কিন্তু ত্রিপুরার
বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের (কিলোওয়াট/ঘণ্টা) মূল্য হিসেবে
৬ টাকা ৩৪ পয়সা দাম ঠিক হয়েছে। উল্লেখ্য,২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর ভারত থেকে
আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। ভারত থেকে দৈনিক ৫০০ মেগাওয়াট
বিদ্যুৎ আনা হচ্ছে বাংলাদেশে। যার ফলে, বাংলাদেশের ভেতর
দিয়ে বিনা মাশুলে ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের এই ৭২৬
মেগাওয়াটের পালাটানা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারি যন্ত্রপাতি পরিবহনে ‘ট্রানজিট’ সুবিধা দেয়
বাংলাদেশ। এই বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের মালামাল নেয়া শুরু হয়েছিল ২০১১ সালের
মার্চ মাস থেকে, আশুগঞ্জ নৌবন্দর হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া
জেলার ওপর দিয়ে আখাউড়া সীমান্ত হয়ে এই ভারি যন্ত্রপাতি মালামাল ত্রিপুরা নেয়ার
জন্য সরকার তিতাস নদীর মাঝে বাঁধ দিয়ে রাস্তা করে দেয় বন্ধুত্বের জন্য। যার ফলে
স্থানীয় রাস্তা ও নদী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল যা হয়তবা অনেকের মনে আছে। আর
এই ভাবে ১৪টি চালানে ভারি যন্ত্রপাতি ত্রিপুরা নেয়া হয় বিনা মাশুলে এবং এর ফলে
ত্রিপুরা রাজ্য সরকার এ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দেয়ার
প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই সময় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বাংলাদেশের
গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘কৃতজ্ঞতাস্বরূপ’ বাংলাদেশকে এ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়া হবে। যা ডিসেম্বরে'২০১৫ এ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। এ জন্য দুই দেশের প্রয়োজনীয়
অবকাঠামোও প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় গত বছরের শেষ দিকে হঠাত করে
ভারত বিদ্যুতের দাম বেশি চাওয়ায় আমদানি শুরু হয়নি। যার ফলে ২৭ ও ২৮ নভেম্বর এই
নিয়ে নয়াদিল্লিতে দুই দেশের বিদ্যুৎসচিব পর্যায়ের বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয় এবং বিষয়টি
নিয়ে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকে ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত
করে সরকার। তবে দামের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে গোপন করে সরকারের পক্ষ থেকে।
উল্লেখ্য বর্তমানে আমরা ভারত থেকে যে বিদ্যুৎ আনছি তাতে গড়ে ৪ টাকা (৫ সেন্ট) খরচ
হচ্ছে। সেখানে ত্রিপুরার ১০০ মেগাওয়াটের জন্য ৬ সেন্ট দিতে চাইছে বাংলাদেশ। তাতেও
রাজি নয় ভারত। শেষ পর্যন্ত ওই ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ ভারতকে ৬ টাকা
৪৩ পয়সা (৮ সেন্ট) যা গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের বিদ্যুতের
দামের চেয়ে অনেক বেশি দিতে হচ্ছে তাহলে একে “কৃতজ্ঞার বিদ্যুৎ” বলি কী করে ?_রনি মোহাম্মদ,লিসবন পর্তুগাল।




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন